ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যাকান্ডে ছেলের সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার নাটোর-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভুয়া বলে দাবি করছেন এমপি। এদিকে গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় যুবদল নেতা ও এমপিপুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার পরপরই থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মিন্টুকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে দল।
এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিহত শাকিলের কবর জিয়ারত করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় যুবদলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সহযোদ্ধার প্রাণহানির মতো গুরুতর কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নুরুজ্জামান মিন্টুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল শাকিলের কবর জিয়ারতের পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত যে-ই হোক না কেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো অপরাধী যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য তিনি প্রশাসনকে কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় শাকিলের বাবা রবিউল করিম বলেন, যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এদিকে গত বুধবার সকাল থেকে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একজন পুরুষকে নগ্ন অবস্থায় এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনে দেখা ও শোনা যায়। তবে ভিডিওটি আসল কি-না, কিংবা এতে থাকা ব্যক্তি সত্যিই সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট নারীর পরিচয়ও জানা যায়নি।
একটি সূত্রের দাবি, ছড়িয়ে পড়া প্রায় পাঁচ মিনিটের ওই ভিডিওটি এক প্রবাসীর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম প্রকাশ করা হয়। পরে সেগুলো বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভিডিওগুলোর উৎস, সম্পাদনার ইতিহাস ও সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ অভিযোগ অস্বীকার করে ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। রাজনৈতিকভাবে মানহানি করতে প্রতিপক্ষ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে হেয় করার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করে তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।
সংসদ সদস্যের কথিত আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের পর গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস চত্বরসহ কয়েকটি স্থানে তার ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মী শাকিল হত্যাকাণ্ডে সংসদ সদস্যের ছেলের নাম আসা এবং পরবর্তী সময়ে তাকে ঘিরে ভিডিও বিতর্কের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, এমপি আজিজের দুই ছেলের পৃথক সমর্থক গোষ্ঠী আছে। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী। অন্যদিকে মিন্টু উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ছোট ভাই সোহাগ উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক। দুই ভাইয়ের সমর্থক গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।
ওসি প্রত্যাহার, তদন্তভার ডিবিতে : এদিকে শাকিল হত্যা মামলার তদন্ত চলাকালে গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে ‘জনস্বার্থে’ সংযুক্ত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তভার গুরুদাসপুর থানা-পুলিশের কাছ থেকে সরিয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ওসি প্রত্যাহারের সঙ্গে শাকিল হত্যা মামলার তদন্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি-না, অফিস আদেশে তা স্পষ্ট করা হয়নি।