সরবরাহ স্বাভাবিক তবু বাড়ছে ছোলার দাম

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম

রমজানকে টার্গেট করে এবার বেশ আগেভাগেই খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বাড়ছে ছোলার দাম। সরবরাহ ঘাটতি না থাকলেও মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি কেজি ছোলার দাম বেড়েছে ১৩ টাকা থেকে ১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানেও এর প্রভাব পড়ছে। তবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব নেতারা বলছেন, বরাবরের মতো এবারও রমজানকে সামনে রেখে আগেভাগেই অসাধু চক্রের কারসাজিতে নানা অজুহাতে ছোলাসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের যথাযথ মনিটরিং না থাকায় তারা এ সুযোগ নিচ্ছে।

রমজান মাসে ইফতারের মূল উপাদান হিসেবে গণ্য করা হয় ছোলাকে। দেশে এই একমাসেই বছরের অন্য ১১ মাসের সমান ছোলার চাহিদা থাকে। যে কারণে রমজানকে সামনে রেখে পণ্যটির আমদানিও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, পর্যাপ্ত আমদানি ও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বে রমজানের আগে বাজারে পণ্যটির দাম বেড়ে যায়।

চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে বর্তমানে প্রতি মন ছোলা ৩৭০০ টাকা থেকে ৩৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি কেজি ছোলার দাম পড়ে ৯৯ টাকা থেকে ১০০ টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ১১৫ টাকা থেকে ১২০ টাকায়। অথচ এক মাস আগে পাইকারিতে ৮৫ থেকে ৮৭ টাকায় এবং খুচরায় ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে ছোলা বিক্রি হয়েছে।

নগরীর আসকার দীঘির পাড় কাঁচাবাজারের মুদি দোকানদার সুধির ধর এ প্রতিবেদককে জানান, এক মাস আগেও খাতুনগঞ্জ থেকে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ টাকার নিচে দাম পড়ত। এখন পড়ে ১০০ টাকার ওপরে। আগে খুচরায় প্রতি কেজি ছোলা ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি করলেও এখন বিক্রি করছে ১১৫ টাকা দরে।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য মতে, চলতি বছর ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে মোট ৬৯ হাজার  ৪৯৬ টন ছোলা আমদানি হয়েছে। আগের বছর একই সময়ের তুলনায় ১২ গুণ বেশি। গত বছর (২০২৫) একই সময়ে ছোলা আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৪৮ টন। এ ছাড়া আমদানিকৃত ছোলার আরও একাধিক চালান পাইপলাইনে রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে খাতুনগঞ্জ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ দে বলেন, ‘বাংলাদেশে ছোলার চাহিদার প্রায় পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অস্ট্রেলিয়া থেকে এ ছোলা আমদানি করা হয়। কিন্তু দেশটিতে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে সেখানে ছোলার বুকিং রেট বেড়ে গেছে। বর্তমানে বাড়তি রেটে আমদানি করা ছোলা বাজারে আসার কারণে এর দাম বেশি পড়ছে। তিনি জানান, দুই মাস আগেও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি টন ছোলা ৬৫০ থেকে ৬৮০ ডলারে বুকিং দেওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বুকিং রেট ৮০০ ডলারের ওপরে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খাতুনগঞ্জের বাজারে বর্তমানে ছোলার পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তা ছাড়া রমজানের আগে আমদানিকৃত আরও ছোলা বাজারে আসবে। তাই রমজানে ছোলার সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা নেই।

এ সময়ে বাজারে ছোলার দামবৃদ্ধিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি বলে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, প্রতিবারই দেখা যায় রমজানের কয়েক মাস আগে ছোলা, তেল, চিনিসহ  নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। আর রমজানে এ বাড়তি দামে এসব পণ্য বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট হাতানো হয়। তিনি বলেন, পণ্য বাজারে প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবে অসাধু চক্র এ অপকর্ম করে পার পেয়ে যায়। রমজানে যখন বাজার মনিটরিং করা হয় তখন তারা দাবি করে অনেক আগেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে, রোজা উপলক্ষে নয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে বছরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টন ছোলার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে কেবল রমজান মাসেই চাহিদা থাকে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টন, যার প্রায় পুরোটাই আমদানি হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে। অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনোমিকস অ্যান্ড সায়েন্সেস-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চাষাবাদের জমি এবং মাঠে ফলন কমে যাওয়ায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ছোলার উৎপাদন ৫২ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এটি সত্য হলে আগামীতে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও বেড়ে যেতে পারে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত