নবম দিনের অবরোধে সাজেক, বাঘাইহাটে সেনাপ্রধান

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দিচ্ছে। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বিঘ্নিত হচ্ছে। 

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ নবম দিনে গড়িয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে অবরোধের সমর্থনে সাজেক সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেয় অবরোধকারীরা।

গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় এই অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি এসোসিয়েশন।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল দিচ্ছে। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও বিঘ্নিত হচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতিতে রাঙামাটির বাঘাইহাট জোনের সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বাঘাইহাট জোনে যান। বৃহস্পতিবার রাতে সেনাবাহিনীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন। প্রতিকূল পরিবেশ ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সেনাসদস্যদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন।

সেনাপ্রধানের বাঘাইহাট জোন পরিদর্শনের সময় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও চট্টগ্রাম এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার, সেনা সদর এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজো বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা; পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাঙামাটির সাজেক পর্যটন সড়কে স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, অবরোধকারী এবং দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দেওয়া পূর্বের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার পর দাবি আদায় না হওয়ায় সংগঠন দুটি ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয়। 

অবরোধের প্রথম দিনে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন। গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়ি বহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হয়।

সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটক ও নিরাপত্তা বাহিনীর কনভয়টি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে তাদের পথরোধ করে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও অবরোধকারীরা পথ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত