আরব ভোটারদের সমর্থন নিতে নারাজ ইসরায়েলি রাজনীতিকরা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৯ পিএম

ফিলিস্তিনি ভোটাররাই নির্ধারণ করে দিতে পারেন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। কিন্তু তাদের ভোটের রায় মেনে নিতে নারাজ দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব। খবর আল জাজিরা। 

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে এখনো বেশ কিছু বিষয় অনিশ্চিত। নিজেদের ‘জায়নবাদী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিরোধী দলগুলোর জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন পায়নি।

তবে নির্বাচনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ব্যাপক ভোটদান। তাদের অংশগ্রহণে আরব দলগুলো পার্লামেন্টে এখন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফলে ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন পেলে বিরোধী জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।

গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধ এবং নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের প্রকাশ্য বর্ণবাদী অবস্থানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ব্যাপকভাবে ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ইসরায়েলে ভোট দেওয়ার যোগ্য ফিলিস্তিনিদের প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ায় তাদের এই অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।

এর ফলে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট (রাআম) এবং জয়েন্ট লিস্ট—মোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ১৯টি আসন পেয়েছে। এই আসনগুলোই পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কিন্তু ফিলিস্তিনি ভোটারদের এই বিপুল অংশগ্রহণকে স্বাগত জানানোর পরিবর্তে ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের অনেকে তাদের ভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। কেউ কেউ এই ভোটের পেছনে বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছেন, আবার কেউ ফিলিস্তিনিদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগকেই নির্বাচন ছিনতাইয়ের চেষ্টা হিসেবে তুলে ধরছেন।

ফিলিস্তিনিদের এই নির্বাচনী সাফল্যকে ‘ইসরায়েলের ইসলামিকরণ’ প্রচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। এমনকি বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি ভোটারের অংশগ্রহণের পেছনে বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ ছিল কি না, তা তদন্ত করতে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগের মাধ্যমে আরব ভোটের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিনি দলগুলোর জোট গঠনের সম্ভাবনাকেও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

নেতানিয়াহু সরকারের দুর্নীতি, অদক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুললেও দেশটির ইহুদি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোর বড় একটি অংশ ফিলিস্তিনি দলগুলোর সমর্থন নিতে এখনো অনীহা দেখাচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত