১১ দলের লংমার্চ ঘিরে খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম

১১ দলের লংমার্চ ঘিরে খুলনায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে শনিবার (৩১অক্টোবর) নগরীর শিববাড়ী মোড়ে লক্ষাধিক এবং ফুলতলায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।

ঢাকা থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লংমার্চে অংশ নেবে এক হাজারের বেশি যানবাহন। সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করছে ১১ দলীয় জোট।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করা।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। সকাল ৮টায় যানবাহনের বহর যাত্রা শুরু করবে। পদ্মা সেতু, ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও কাটাখালী হয়ে বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনার কাটাখালীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় শিববাড়ী মোড়ে সমাবেশ হবে।

এরপর বেলা সোয়া ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ শেষে যশোর, চুয়াডাঙ্গা হয়ে কুষ্টিয়ার আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে কর্মসূচি শেষ হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

এছাড়া  বক্তব্য রাখবেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্ণেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শাইখুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।

শুক্রবার বিকেলে শিববাড়ী মোড়ের সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে আয়োজক কমিটির খুলনার আহ্বায়ক ও মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, কর্মসূচির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, কর্মসূচি সফল করতে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ২৬৬ স্বেচ্ছাসেবক। প্রচারের জন্য ৫০ হাজার পোস্টার, তিন লাখ লিফলেট, দুই হাজারের বেশি ফেস্টুন, এক হাজারের বেশি প্ল্যাকার্ড, শতাধিক বিলবোর্ড ও ৫০০-এর বেশি ব্যানার টানানো হয়েছে। সমাবেশের জন্য ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৪ ফুট প্রস্থের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রচারের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক হর্ন ও স্পিকার।

যানবাহন রাখার জন্য জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি মাঠ, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল ও ময়ূরী আবাসিক এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিববাড়ী থেকে সোনাডাঙ্গা, ময়লাপোতা, নিউমার্কেট ও পাওয়ার হাউস মোড় পর্যন্ত মাইকিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ও যানবাহনের কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে সাময়িক ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত