নবাবগঞ্জের উন্নয়নে আজও অনুপ্রেরণা আফসার আলী বিএসসি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের শিক্ষা বিস্তার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অবিস্মরণীয় এক নাম মরহুম আফসার আলী বিএসসি। নিজের মেধা, শ্রম, সততা ও দূরদর্শী চিন্তায় তিনি যে উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন, তা আজও এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। ২০১৪ সালের ১ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও তার অবদান ও কর্মময় জীবন আজও নবাবগঞ্জবাসীর স্মৃতিতে অম্লান।

১৯৩১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আফসার আলী বিএসসি। ১৯৫৪ সালে তিনি নবাবগঞ্জ থানার প্রথম দিকের বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দিলেও নিজ এলাকার উন্নয়নের তাগিদে চাকরি ছেড়ে নবাবগঞ্জে ফিরে আসেন। এরপর নিজেকে নিয়োজিত করেন শিক্ষা, যোগাযোগ ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে।

নবাবগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে তার অবদান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, এফতেদায়ী মাদরাসা ও নবাবগঞ্জ কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ, নবাবগঞ্জ ডাকঘর, এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগেও তার অবদান ছিল।

শিক্ষার পাশাপাশি নবাবগঞ্জের রাস্তাঘাট, যোগাযোগব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণে কাজ করেছেন তিনি। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডেও তার ভূমিকা ছিল। সাঁওতাল সম্প্রদায়ের শেষকৃত্যের জন্য জমি এবং মুসলমানদের ঈদগাহের জন্য জমি দান করে তিনি মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, নবাবগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আফসার আলী বিএসসির অবদান রয়েছে। শিক্ষকদের সম্মান, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার আন্তরিকতা ছিল অনুসরণীয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, আফসার আলী বিএসসি ছিলেন নবাবগঞ্জের উন্নয়নের জন্য নিবেদিত একজন মানুষ। নিজের স্বার্থের চেয়ে এলাকার মানুষের শিক্ষা ও কল্যাণকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। তার উদ্যোগ ও অবদানের কারণে নবাবগঞ্জের অনেক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তার অবদান তুলে ধরা প্রয়োজন।

মরহুমের ছেলে সহকারী অধ্যাপক আল আলিমুল রাজি রাজিব বলেন, আমার বাবার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা। তিনি নিজের এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও শিক্ষার প্রসারকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিলেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে নবাবগঞ্জের মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার আদর্শ ও কর্মময় জীবন আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের। আমরা তার দেখানো পথে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।

স্থানীয়দের মতে, নবাবগঞ্জের উন্নয়ন ও শিক্ষা বিস্তারের ইতিহাসে আফসার আলী বিএসসির অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার কর্মময় জীবন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং স্মৃতি সংরক্ষণে তার নামে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেছেন তারা।

২০১৪ সালের ১ নভেম্বর পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেও তার হাতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান, জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আজও বেঁচে আছেন আফসার আলী বিএসসি। নবাবগঞ্জের উন্নয়ন ইতিহাসে তার অবদান আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত