দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের মিছিল

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র  ডাকে রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রবিবার (১ নভেম্বর) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধীরা। অন্যদিকে, একই দিনে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পাল্টা মিছিল বের করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছে দলটি। খবর এনডিটিভির। 

বিরোধী ও ক্ষমতাসীন দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাতেও। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে যানজট ও সড়ক চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিরোধী জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রামলীলা ময়দানের সমাবেশ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা। 

সমাবেশস্থলটি দিল্লির একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। আশপাশে রয়েছে পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান। ফলে সমাবেশের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সমাবেশে অংশ নিতে বিভিন্ন রাজ্য থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসেছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড ও হরিয়ানা থেকে কর্মী-সমর্থকদের জড়ো করেছে। সমাজবাদী পার্টি ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলও (আরজেডি) নিজ নিজ নেতা-কর্মীদের নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। তবে সমাবেশের বড় অংশের কর্মী-সমর্থক বামপন্থী দলগুলোর বলে জানা গেছে।

এর আগে শনিবার বিরোধীদের একটি কর্মসূচিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগসংবলিত একটি প্রতীকী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

ওই প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ ছাড়া ১৩ কোটি ২০ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, সংসদীয় তদারকি ছাড়াই ফরম-৬ পরিবর্তন এবং ইসিনেটের  মাধ্যমে ভোটার তালিকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে বিরোধীদের রবিবারের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না তরুণদের নেতৃত্বাধীন সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শনিবার দিল্লিতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেন। তরুণদের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় তাঁকে ধন্যবাদও জানান তিনি। তবে দিপকে স্পষ্ট করেছেন, সংগঠনটি নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখবে এবং বিরোধী দলগুলোর কর্মসূচিতে যোগ দেবে না।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত