বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন।
রবিবার (১ নভেম্বর) স্পিকারের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিস্তার ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ নরওয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সব সময় সহযোগিতা করে আসছে।
স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছিল। ওই সময়ে গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ তৎকালীন বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে আবারও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নরওয়েসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ সহযোগিতা করতে পারে।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। শান্তিরক্ষী পাঠানোর মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নরওয়ে সব সময় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে মতবিনিময় করেন তাঁরা। এ ছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম ও জুলাই সনদ নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে নরওয়ের কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।