প্রতিহিংসার রাজনীতি করা জামায়াতের আদর্শ নয়: আজহারুল ইসলাম

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি ও হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে দলটির নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হবে না।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ও কর্মীদের ওপর হামলা এবং বাড়িঘরে ভাঙচুরের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এটিএম আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটকেন্দ্রের সামনে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলেও নির্বাচন কমিশন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। তার ভাষায়, ভোটের দিন কেন্দ্রের সামনে মাইকিং করে ভোট চাওয়ার নজির বিএনপিই তৈরি করেছে। এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচনের আগে দলটি গণভোটের রায় মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার পর সংবিধানের দোহাই দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে। জনগণকে বোকা মনে করার সুযোগ নেই। মানুষ সবকিছুই বুঝতে পারছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিএনপি যদি মনে করে সংবিধানে গণভোটের বিধান নেই এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জুলাই সনদ প্রণয়নের এখতিয়ার ছিল না, তাহলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোন সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা দলটিকে স্পষ্ট করতে হবে।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জনগণ শুধু প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন চায়নি, তারা রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন ছাড়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বরং বিএনপি নেতাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার ছাড়া জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন সংসদ অধিবেশনের আগেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনসহ চলমান সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সরকার সহযোগিতা চাইলে রাষ্ট্র গঠনে বিরোধী দল সহায়তা করতে প্রস্তুত বলেও জানান জামায়াতের এই নেতা।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট কারচুপির আশ্রয় নিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

আব্দুল হালিমের দাবি, দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট পড়ার হার ছিল ৩৮ শতাংশ। অথচ ফলাফল ঘোষণার সময় তা ৬৪ শতাংশ দেখানো হয়েছে। জামায়াত প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট কম দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের চেষ্টা করা হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, মাহফুজুর রহমান, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এমপি ও মাওলানা ইয়াসিন আরাফাতসহ অন্য নেতারা।

সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করা কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি করা জামায়াতের আদর্শ নয়। তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন এবং জনগণকে সচেতন করেন। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পরাজয়ের লজ্জা আড়াল করতে বিএনপি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে।

সমাবেশ শেষে উপনির্বাচনে অনিয়ম, জালিয়াতি এবং হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি পল্টন ও বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত