গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে চায় সরকার। আর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য বাড়ির ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ কেনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আগেই। সাধারণ মানুষকে আরও আগ্রহী করতে এবার রাজধানীতে একটি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী মঙ্গল ও বুধবার দুইদিনব্যাপী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ ও জ¦ালানিমন্ত্রী। যৌথ আয়োজনে সরকারের অংশীদার হচ্ছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগামী গ্রীষ্মে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে কিছুটা হলেও লোডশেডিং কমানো সম্ভব হবে। দুইদিনব্যাপী এ আয়োজনে সৌরবিদ্যুৎ খাতের নীতিগত উন্নয়ন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে চারটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সোলার এক্সপোতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও উপস্থিত থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রীর বাসায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘উনি নিজেও অফ গ্রিড হয়ে গেছেন। তিনি নিজের বাসায় আর গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।’ জ¦ালানির দাম বাড়তে বাড়তে ৩২ ডলারে পৌঁছেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে সৌরবিদ্যুতের দিকে যেতে হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ খাতের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে মানুষের ভোগান্তি এড়ানোই এসব পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
সোলার এক্সপোর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রতিটি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই। এক্সপোতে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, স্মার্ট এনার্জি প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়ন, সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা নিয়ে অংশ নেবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প উন্নয়নকারী ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ইনভেস্টর জোন।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সাড়ে ১০ টাকা দরে কেনার বিশেষ প্রকল্পও ঘোষণা করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে শুল্ক ১ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক) মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।