সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো প্রায় চারমাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ধীরে ধীরে তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাতে এ খবর দিয়েছে দ্য নিউইর্য়ক টাইমস।
ট্রাম্পের টুইটার বার্তায় বলেন, ‘আমরা ধীরে ধীরে আমাদের সৈন্যদের বাড়ি ফিরিয়ে আনছি।’
এ সংক্রান্ত প্রথম ঘোষণা আসে ১৯ ডিসেম্বর। তখন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ৩০ দিনের মধ্যে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে।
কিন্তু সোমবার নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ব্যক্তিগত আলাপের সময় ইরাক ও সিরিয়ার মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার পল ডে লাকামেরাকে ট্রাম্প বলেন, সেনা সরাতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
তবে কবে সেনারা দেশে ফিরবে এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সামরিক কর্মকর্তারা। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এ পেছনে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয় জড়িত। এ ছাড়া যে কোনো সময়ে ট্রাম্পের মনোভাব পাল্টে যেতে পারে।
এ দিকে রোববার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও বলেন, ধীরে গতিতে সৈন্যদের ফেরাতে রাজি হয়েছে ট্রাম্প।
প্রথমদিকে ট্রাম্প বলেছিলেন, আইএস যোদ্ধারা পরাজিত হয়েছে। কিন্তু পরে পিছু হটে বলেন, বেশিরভাই পালিয়ে গেছে।
ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে অনেক রাজনীতিকই ক্ষুব্ধ হন। এর মধ্যে নিজ দল রিপাবলিকান ও পেন্টগানেরও অনেকে আছেন। এ ঘোষণার পরপরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস ও আইএস প্রতিরোধী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দূত ব্রিট ম্যাকগার্ক ইস্তফা দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলে মার্কিন সেনাবাহিনীর দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সেখান থেকে আইএসকে হটাতে তারা স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন সিরিয়া নিয়ে নতুন মার্কিন কৌশল ঘোষণা করেন। এরপর সিরিয়া যুদ্ধ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
জাতিগত দ্বন্দ্ব আর আন্তর্জাতিক কূটচালে সাত বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়। ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেনের পথ ধরে দেশটিতে রক্ত ঝরছে।
গত ৪০ বছর ধরে সেখানে নিজেদের শাসন পাকা করে ফেলেছেন বাসার আল-আসাদের বাথ পার্টি। তবে আরব বসন্তের ঢেউ লাগে দেশটিতে। ২০১১ সালের মার্চে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। একপর্যায়ে শুরু হয় গৃহযুদ্ধ। অন্যদিকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে আইএস।