শওকত ওসমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী পালিত

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ভাষাসংগ্রামী ও গবেষক আহমদ রফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন সাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী, সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শওকত ওসমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম।  

অনুষ্ঠানে গবেষক আহমদ রফিক বলেন, ‘চল্লিশের দশকে বাংলা সাহিত্য যারা সমৃদ্ধ করেছেন সেখানে অন্যতম নাম শওকত ওসমান ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ। বাংলা সাহিত্য নিয়ে কেউ যদি কথা বলতে যায়, গবেষণা করে, সেখানে শওকত ওসমানকে কোনোভাবেই বাদ দিতে পারবে না। তাকে আমাদের চর্চা করতেই হবে। এরকম একজন সাহিত্যিকের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেটা আমার জন্য গৌরবের।’

প্রযুক্তিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমার চিন্তা-চেতনায় বাঙালিত্ব, বাংলা ভাষার প্রতি প্রেম তৈরি হবার উন্মেষকালে শওকত ওসমানের মতো শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছি। শওকত ওসমানের অনুপ্রেরণা না পেলে হয়তো আমি কম্পিউটারে বাংলা অক্ষর তৈরি করার চেষ্টাটা থামিয়ে দিতাম। আমি যখন ১৯৮৬ সালে কম্পিউটারে বাংলা অক্ষর তৈরির স্বপ্ন দেখেছি তখন আমার সকল বন্ধুরা আমাকে পাগল বলেছে। গত ১ জানুয়ারি সারাদেশে সরকার ৩৪ কোটি বই বিতরণ করেছে। সেই বইয়ের প্রতিটি পাতায় যতগুলো বাংলা অক্ষর রয়েছে। তার সবগুলো অক্ষর আমার হাতে ডিজাইন করা। একজন মানুষের জীবনে এর চেয়ে গৌরবের আর কিছু থাকতে পারে না। আমার দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হবার ভিতটা যে কজন শিক্ষক তৈরি করে দিয়েছেন তাদের মধ্যে শওকত ওসমান অন্যতম।’

অনুষ্ঠানে শওকত ওসমানের নামে সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা করেন আহমদ রফিক। এবছর শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন হারুন পাশা ও রাশেদ রহমান। ‘তিস্তা’ উপন্যাসের জন্য হারুন পাশাকে এবং ‘বিষলক্ষার ছুরি’ গল্পগ্রন্থের জন্য রাশেদ রহমানকে এই পুরস্কার দেয়া হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে শওকত ওসমানের ছবি সংবলিত ডাক টিকিট অবমুক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আকবর হুসাইন, ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মেরিন নাজনীন শিপা।