গল্প

ভালোবাসা

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

ঢোলগ্রামে কবরস্থান ও শ্মশানের সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। এখানে মানুষেরা শুধু শুধুই মারা যায়। কারণে-অকারণে মারা যায়। না চাইলেও মরে। একদিন ভরা পূর্ণিমার রাতে, ঢোলগ্রামবাসী সবাই কবরস্থান ও শ্মশানগুলো থেকে গঁ-গঁ শব্দ শুনতে পায়। মাঝে মাঝে শব্দগুলো মৌমাছিদের গুঞ্জনের মতো মনে হয়। সবাই কল সেন্টারে ফোন করে। সেখান থেকেও ভোঁ-ভোঁ শব্দ ভেসে আসে। তারপর সবাই বোঝে শব্দগুলো আসলে কবর আর শ্মশান থেকেই আসছে। নারী-পুরুষ-বাল-বাচ্চা সবাই সেদিকে দৌড়ে যায়। তারা কাছে গেলে শব্দগুলো আরও জোরে শোনা যায়। কিন্তু কেউ নেই; কোনো দেহ নেই; কোনো মানুষ নেই; কোনো মাইক নেই—শুধু শব্দ আর বঁ-বঁ কণ্ঠ। আরও কাছে গেলে, মানুষেরা পরিষ্কার শুনতে পায়। কেউ যেন বলছে—‘তুমি তো আমায় কখনো বলোনি। কেন বলোনি?’ গ্রামবাসী ভয় পেয়ে যায়। ভাবে কবরবাসী-শ্মশানবাসীদের শয়তান জিন-ভূত শাস্তি দিচ্ছে। ঠিক সেই সময় কানে শুনতে পায় না, কথা বলতে পারে না—এমন বারো বছরের এক কিশোর তার বাবার কবরের কাছে গিয়ে বলে ওঠে, ‘আব্বা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

তখন সব শব্দগুলো নীরব হয়ে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত