ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার থানা সড়কের ক্রিয়েটিভ কোচিং সেন্টার নামের প্রাইভেট কোচিং সেন্টার পরিচালক আব্দুল মালেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার বিকেলে ঐ কোচিং সেন্টারের এসএসসি পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টাকালে স্থানীয়রা আব্দুল মালেককে হাতে নাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, থানা গেটের বিপরীতে পরিচয় কিন্ডার গার্ডেন নামে একটি শিশু শিক্ষা স্কুলের কক্ষে পরিচালিত ক্রিয়েটিভ কোচিং সেন্টারের পরিচালক কুষ্টিয়া শহরের মজমপুরের বাসিন্দা মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ ছিলো।
শুক্রবার বিকেলে ঐ কোচিং সেন্টারের অন্যসব শিক্ষার্থীদের বিদায় করে একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে রেখে দেয় এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।
এমসয় স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে পুলিশে সংবাদ দেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আটককৃত আব্দুল মালেককে সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামালের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে।
মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে আব্দুল মালেক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ স্বীকার করেন। ফলে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধি ৫০৯ ধারায় তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রীর বড়বোনের অভিযোগ, ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোতে পড়তে আসা ছাত্রীরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সামাজিক বাস্তবতায় এজাতীয় নির্যাতনের শিকার হয়েও অধিকাংশ সময় কেউ মুখ খুলতে চান না। আমরা অভিভাবকরাও মেয়েদের কোচিং সেন্টারে পাঠিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।
কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজের নেতা হাজি গোলাম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, প্রাইভেট টিউটোরিয়ালগুলো নানা নামের কোচিং সেন্টার খুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের নামে বিশেষ করে ছাত্রীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে উত্ত্যক্ত ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা প্রায়ই ফাঁস হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে ইতিপূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কয়েকবার নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যত: কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।