বন্ধুকে গলাকেটে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

নিখোঁজের তিন দিন পর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর নির্জন এলাকা থেকে অটোচালকের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে গোদাগাড়ী উপজেলার আমতলি জলাহার কার্বের মোড় এলাকার এক পুকুরের পাশে ঝোপ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের নাম জসিম উদ্দীন জয় (২২)। তিনি রাজশাহী নগরীর বড় বনগ্রাম মাস্টারপাড়া এলাকার আরফান আলীর ছেলে। রাজশাহী মহানগর ও গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা চালকের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার সাথে জড়িত দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা নিহত অটোচালক জসিম উদ্দিন জয়ের বন্ধু। তারা হলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটার শাহ আলমের ছেলে সুমন (২৩) ও কালামের ছেলে জসিম (২২)। তবে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মারিফুলের ছেলে রাজিবকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

পরিবারের বরাত দিয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, জয় গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ি থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন নগরীর শাহমখদুম থানায় সোমবার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বুধবার বিকেলে অটোচালক জসিম উদ্দিন জয়ের পরিবারের লোকজন কৌশলে তার বন্ধু গোদাগাড়ীর সুমন ও জসিমকে নগরীর বাসায় ডেকে নেয়।

পরে তাদের শাহমখদুম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বন্ধু জসিম উদ্দিন জয়কে হত্যার বর্ণনা দেন।

তারা পুলিশকে জানায়, তিন বন্ধু জয়কে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে তার অটোরিকশাসহ তাকে ডেকে নেয়।

এরপর তারা সারাদিন শহরের বিভিন্নস্থানে ঘোরাঘুরি করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে তাকে কৌশলে গোদাগাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন এলাকায় গোদাগাড়ী উপজেলার আমতলি জলাহার কার্বের মোড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় জয়কে। এর আগেই জয়কে তারা কোমল পানীয়ের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। পরে তিন বন্ধু মিলে জয়কে গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুকুরের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। একই সাথে জয়ের অটোরিকশা নিয়ে চলে যায়। তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে জয়কে অটোরিকশার জন্যই হত্যা করা হয়েছে।

শাহমখদুম থানার ইন্সপেক্টর বানী ইসরাইল জানান, মৃতদেহের পাসহ বিভিন্ন অংশ ক্ষত-বিক্ষত। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।