চলে গেলেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া 'নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে'র লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশভাগের পর ভারতে চলে যাওয়া এ ঔপন্যাসিক ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বিকেলে কলকাতার এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন তিনি। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার তার শেষকৃত্য হবে বলে ভারতের গণমাধ্যমে জানান হয়।
১৯৩৪ সালে ঢাকায় জন্ম নেন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় এ লেখক। তার বাল্যকাল কেটেছে বাংলাদেশে। তৎকালীন পূর্ব বাংলার সোনারগাঁও পানাম স্কুলে তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর সপরিবারে ভারত চলে যান।
অতীন বন্দোপাধ্যায়ের সবচেয়ে আলোচিত ‘অলৌকিক জলযান’ ও ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’ উপন্যাসে রয়েছে তার শৈশব তথা বাংলাদেশের কথা। তখনকার সমাজে ধর্ম ও শ্রেণিভেদ তিনি তুলে এনেছেন পরম আন্তরিকতা ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে।
নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে উপন্যাসে অতীন বন্দোপাধ্যায় এক মানবিক, সমতার, ভেদাভেদহীন জীবনের দাবি জানিয়েছেন। উপন্যাসে ছিল সে জীবন না পাওয়ার হতাশাও।
সৃষ্টি দিয়েই পাঠকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। তার লেখা ‘অলৌকিক জলযান’, ‘ঈশ্বরের বাগান’, ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’, ‘মানুষের ঘরবাড়ি’, ‘পঞ্চযোগিনী’পেয়েছে পাঠকপ্রিয়তা।
সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ২০০১ সালে সাহিত্য অকাদেমিসহ একাধিক পুরস্কার পান অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ ছাড়া সমুদ্র মানুষ-এর জন্য মানিক স্মৃতি পুরস্কার (১৯৫৮), বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯১),পঞ্চযোগিনীর জন্য ভুয়াল্কা পুরস্কার (১৯৯৩) পান। দুই ভারতবর্ষের জন্য পান বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৯৮)। এ ছাড়া পেয়েছিলেন মতিলাল পুরস্কার, তারাশঙ্কর স্মৃতি পুরস্কার, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুধা পুরস্কার (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে)।
তার মৃত্যুতে ভারতের গণমাধ্যমে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনেক দিনের পুরোনো বন্ধুকে হারালাম। উদ্বাস্তু হয়ে চলে আসার পরে বহু লড়াই করেছেন তিনি। নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে নিজের জীবনের কথাই তুলে ধরেছিলেন তিনি। অসাধারণ কিছু গল্প লিখেছেন। দেখাসাক্ষাৎ হতো না তেমন। শেষ অবস্থায় একা হয়ে গিয়েছিলেন'।