বিয়ের ধুমধাম, চলছে গান-বাজনা। সাজসজ্জা আর আয়োজন সব শেষ। প্যান্ডেলও করা হয়েছে। শনিবার আসবে বর। খাবার রান্নারও প্রস্তুতি শেষ করেছে মেয়েপক্ষ। হঠাৎ শুক্রবার রাত ৯টায় উপস্থিত হন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। মেয়েপক্ষ প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাবা ও মেয়ে উধাও হয় বাড়ি থেকে।
বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন অভিযোগে নির্বাহী কর্মকর্তা বিয়ে বন্ধসহ প্যান্ডেল ভাঙার অনুমতি দেন। এমন ঘটনা ঘটে সদর উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে।
পরে শনিবার সকালে কনে শারমিন আক্তারের জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পাসের সনদ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে হাজির মেয়ের বাবা শরিফুল ইসলাম। কাগজ দেখে অনুমতি দেন সদরের ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন।
স্থানীয়রা জানায়, বড়গাঁও গ্রামের শরিফুল ইসলামের অষ্টম শ্রেণি পাস মেয়ের সঙ্গে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বিয়ে ঠিক হয়। শনিবার দুপুরে এ বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার কথা। এ জন্য আগের দিন সব প্রস্তুতি নেয় মেয়েপক্ষ।
কিন্তু তার আগেই সদর উপজেলা প্রশাসন অভিযোগ পায় বাল্য বিয়ে হচ্ছে। এ খবর পেয়ে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজে উপস্থিত থেকে ওই বিয়ে বন্ধ করে দেন।
শারমিনের বাবা শরিফুল ইসলামের দাবি তার মেয়ের বয়স ১৮ বছর ১৭দিন। বড়গাঁও দাখিল মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শ্রেণি পাস করেছে। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কেন পালালেন এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু বুঝিনি, ভয়ে পালিয়েছিলাম’।
মেয়েপক্ষের এমন বক্তব্য সঠিক দাবি করলেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাত কুমার সিং। তিনি জানান, ওই মেয়ে মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পাশ করেছে। তার সার্টিফিকেটে বয়স অনুয়ায়ী ১৮ বছর ১৭ দিন। এই সনদপত্র ইউএনও’ দেখে বিয়ের অনুমতি দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছিলাম বাল্য বিয়ে হচ্ছে। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন পালিয়েছে। তাই বিয়ে বন্ধ করা হয়েছিল। সকালে উপযুক্ত কাগজ দেখে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।