সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনের বিরোধিতা করায় অবরুদ্ধ হয়েছেন জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজন নেতা।
শনিবার কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তার বক্তব্যে নির্বাচন না করে সব প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠাতে বলেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে নেতাকর্মীরা তাকেসহ অন্য নেতাদের আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার।
তিনি ভোটে কাউন্সিলরদের তালিকা করার পক্ষে ছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
শনিবার সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম মুনছুর আহম্মেদ।
ঘোষ সনৎ কুমার জানিয়েছেন, বেশির ভাগ নেতাকর্মী ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণ করে কেন্দ্রে পাঠানোর পক্ষে থাকলেও উপজেলা সভাপতির পক্ষে অবস্থান নেন জেলা সভাপতি এম মুনছুর আহম্মেদ।
তারা ভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিলে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলররা প্রেসক্লাব মোড় থেকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত রাস্তায় শুয়ে পড়ে এবং কাঠ ও ইজিবাইক রেখে নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বল জানিয়েছেন তিনি।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এ সময় কাউন্সিলররা দফায় দফায় স্লোগান দিতে থাকেন ‘ভোট চাই, দিতে হবে’।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, ভোট না দিয়ে গোপনে প্রার্থীদের নিকট থেকে অর্থ বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না।
এ সময় অবরুদ্ধ সড়ক নিয়ন্ত্রণে তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল ও পাটকেলঘাটা থানা অফিসার ইনচার্জ রেজাউল ইসলাম রেজা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আহম্মেদ আড়াই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ভোটে কাউন্সিলরদের দাবি মেনে নিয়ে বিকেলে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা করেন, তালা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এ সময় তিনি সকল কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। পরে কাঠ ও বাইক সরিয়ে সড়ক মুক্ত করা হয়।
তালা থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদককে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করি। পরে তিনি ভোটের ঘোষণা দেওয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে।