চাকরির প্রলোভন বেকারদের টাকা হাতিয়ে নিল ভুয়া এনজিও

শরীয়তপুরে ‘ভুয়া’ এনজিওতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার ৮৩ বেকার তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার মাহমুদপুরে ‘চেতনা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওই বেকারদের কাছ থেকে জামানতের নামে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে পালিয়েছে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর গ্রামে মো. সেকান্দার আলী সরদারের বাড়ির নিচতলায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি শাখা অফিস করে। শাখাটি খোলার পর চেতনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা খানম জামানতের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। চেতনা ফাউন্ডেশনের সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ফর রুটলেস (ওয়ার) কর্র্তৃক পরিচালিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নকল্পে এনজিওটি কার্যক্রম শুরু করে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে এনজিওটি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাস্তবায়নের নামে ম্যানেজার, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, চিফ সুপারভাইজার, সুপারভাইজার, অফিস সহকারী, স্বাস্থ্যকর্মী ও পিয়ন পদে নিয়োগের জন্য ভালো বেতনের প্রলোভন দেখায়। পরে জেলার ৮৩ যুবক-যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের জামানতের টাকা নিয়ে চাকরি দেয়।

মাহমুদপুর গ্রামের মো. নান্নু আকন, স্বপন সরদার, নজরুল সরদারসহ আরও কয়েকজন বলেন, ‘চেতনা ফাউন্ডেশন নামে এনজিওটি অফিস নেওয়ার পরই আমাদের সন্দেহ হয়েছে। এলাকার সহজ-সরল নারী-পুরুষদের কাছ থেকে চাকরির কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারা জানান, চেতনা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সেলিনা খানম বেকারদের জামানতের টাকা নিয়ে পালিয়েছেন।

চেতনা ফাউন্ডেশনে নিয়োগপ্রাপ্ত সুপারভাইজার মাহমুদপুর গ্রামের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী শাবনুর আক্তার বৃষ্টি বলেন, ‘আমার বাবা কৃষিকাজ করে যে টাকা রোজগার করেন, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলে না। বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েও আমার চাকরি হয়নি। বাবার সংসার চালানোর জন্য ২০ হাজার টাকা সুদে এনে জামানত দিয়ে এই এনজিওতে চাকরি নিয়েছি। এখন শুনছি চেতনা ফাউন্ডেশন নামে কোনো এনজিও নেই। সুদে টাকা এনে বিপদে পড়েছি।’ একই গ্রামের পারভেজ খানের স্ত্রী ইভা আক্তারও চাকরির নামে জামানতের টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। এনজিওটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. শওকত হোসেন সরদার জামানত বাবদ অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের এনজিওটি ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে। তবে চেতনা ফাউন্ডেশন নামের এই এনজিওটির নিবন্ধনের ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুর রহমান বলেন, চেতনা ফাউন্ডেশন নামে কোনো এনজিওর তথ্য উপজেলা অফিসে নেই। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। ভুয়া প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।