এবার ‘আটঘাট’ বেঁধে নেমেছে সরকার : কাদের

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয়ের যে ঘাটতি ছিল তা পূরণ করতে সরকার এবার ‘আটঘাট’ বেঁধে নেমেছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন, সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত কোনো গাফিলতি, কোনো অবহেলা হয়নি। সরকার সব ধরনের সহযোগিতা ও সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। মিসিংদের খুঁজে বের করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। তিনটির মতো তদন্ত কমিটি হয়েছে। ঘটনা তদন্তের কাজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, পুরান ঢাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ সব রাসায়নিকের গুদাম এবং অবকাঠামো সরিয়ে ফেলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ইতোমধ্যে উদ্যোগও নিয়েছে।

২০১০ সালে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর থেকেই পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও তার বাস্তবায়নে এত দেরির কারণ জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘সমন্বয়ের যতটুকু অভাব ছিল সেই ঘাটতিগুলো পূরণের জন্য সরকার আটঘাট বেঁধে নেমেছে। অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে নতুনভাবে যাত্রা শুরু হবে, যাতে এই এলাকা থেকে রাসায়নিক অবকাঠামোগত নিরাপত্তাহীনতার অবসান ঘটে। আপাতত চকবাজার ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার যে অবৈধ রাসায়নিকের গুদামÑ এগুলোর অপসারণ করতেই হবে।’ তবে এর জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে কাদের বলেন, এই ঘটনার পর যে অবস্থা এখানে বিরাজ করছে তার সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই ব্যবস্থা নিতে হবে। এখনকার কাজটা হলো, যারা নিহত হয়েছে তাদের লাশ উদ্ধার করে আত্মীয়-স্বজনের কাছে পৌঁছে দেওয়া। অনেকে বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এর পরের কাজ হচ্ছে যারা মিসিং, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, সেই মিসিং ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা। এই কাজগুলো শেষ হলে অন্যান্য কাজে হাত দিতে হবে। বুধবার রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়, পুড়ে যায় পাঁচটি ভবন। এসব ভবনে রাসায়নিক, প্লাস্টিক ও প্রসাধনীর গুদাম থাকায় আগুন ভয়াবহ মাত্রা পায় বলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধারণা।