বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। এই নীতির আওতায় সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সব ধরনের সহযোগিতা নিশ্চিত করবে। গতকাল বুধবার সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের প্রতিনিধি দল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন সংস্থার সেবা ‘ওয়ানস্টপ সার্ভিস’র আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দ্রুত ও নির্বিঘেœ বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি, আইসিটিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি ও খাদ্য বাণিজ্যসহ বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি খাতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

জাপানি প্রতিনিধি দলে ছিলেন মিতসুই অ্যান্ড কোংয়ের এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের পরিচালক, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাকোতো সাতো, একই ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।

প্রধানমন্ত্রী ১৪ জুন কক্সবাজার যাবেন : খাল খনন কর্মসূচির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী ১৪ জুন কক্সবাজার সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বৈঠকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিটি করপোরেশনের কাছে ডিএনডি বাঁধ হস্তান্তরের বিষয়টি তুলে ধরে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ডিএনডি বাঁধ এলাকায় দীর্ঘদিনের একটা জলাবদ্ধতা ছিল এবং এখনো এই সমস্যা অনেকাংশে রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, যা ২০২৪ সালে এসে শেষ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই প্রকল্পের সুফল এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ খুব একটা পাচ্ছে না, যার কারণে এখনও জলাবদ্ধতা লেগেই আছে।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে গতকাল প্রধানমন্ত্রী একটি বিশেষ সভা আহ্বান করেছিলেন।  বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সবার সম্মিলিত আলোচনায় আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমাপ্ত করা প্রজেক্টটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এবার কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাবে। জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি এলাকার বর্জ্য অপসারণ ও বর্জ্যমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়টিও সিটি করপোরেশন সরাসরি তদারকি করবে।

ডিএনডি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই এলাকায় আরও ৩০ কিলোমিটার নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনা হয়েছে।

শিগগির এই প্রকল্পের কাজ শুরু করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাইপ্রাস শান্তি মিশনের ফোর্স কমান্ডারের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে গতকাল সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সাইপ্রাস মিশনে নতুন ফোর্স কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম।  প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম নতুন দায়িত্ব নিতে সাইপ্রাস যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা, পেশাদারত্ব এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ও গৌরব সমুন্নত রাখার বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়।

আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম গত ৯ এপ্রিল সাইপ্রাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের (ইউএনএফআইসিওয়াইপি) ২৩তম ফোর্স কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পান। তিনি দেশের অষ্টম সেনা কর্মকর্তা, যিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডারের দায়িত্ব পেলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত