ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্যনগরের একটি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন; এদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক। পুলিশের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, নিহত বিদেশিরা বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, লাইবেরিয়া ও মোজাম্বিকের নাগরিক। এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল বুধবার দক্ষিণ দিল্লির জনবহুল এই এলাকার লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দক্ষিণ দিল্লির ডিসিপি অনন্ত মিত্তাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ৪০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ৮টি গাড়ির সাহায্যে আগুন সম্পূর্ণরূপে নেভানো সম্ভব হয়েছে।
সূত্রের বরাত দিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মালব্যনগরের ‘মিকাসা ইন’ নামের হোটেলটি চিকিৎসা ভিসায় ভারতে যাওয়া আফ্রিকান নাগরিকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এটি প-িত মদনমোহন মালব্য হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল ও এআইআইএমএস-এর কাছে অবস্থিত। তবে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, রেস্তোরাঁটি বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিএনবি) প্রকল্পের আওতায় মাত্র ৬টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু নিয়ম লঙ্ঘন করে সেখানে ২৫টির মতো কক্ষ চালানো হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভবন থেকে ঘন ধোঁয়া ও আগুনের বিশাল শিখা বের হয়ে আসছে। পুলিশের সূত্রগুলো বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ, আগুন লাগার সময় হোটেলের অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন।
স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা জিতেন্দ্র কুমার সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ পরিচালিত হতো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। কর্মকর্তারা বলেছেন, আহতদের মধ্যে ১৩ জন বর্তমানে এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করে বলেন, প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, ডিডিএমএ, ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসসহ অন্যান্য জরুরি সংস্থাকে উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে। দিল্লি সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
