ভোটার নেই ভোট কেন্দ্রে, ঘুমাচ্ছেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দিনাজপুরের সদর উপজেলা বাদে ১২ উপজেলায় ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হয়েছে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি তেমন নাই বললেই চলে। এর ফাঁকেই দেখা গেছে কেন্দ্র গুলোতে আরাম আয়েশ করে সময় কাটাচ্ছেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, পোলিং এজেন্টসহ আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

চিরিরবন্দরের খেড়কাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে এক মহিলা আনসার সদস্যকে ভোটার নেই দেখে চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাতে দেখা গেছে।

প্রায় ২০টি কেন্দ্র ঘুরে কোথাও ভোটারদের লাইন চোখে পড়েনি। কম বেশি সব উপজেলায় লাইনবিহীন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলার ১২টি উপজেলায় সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও ৯টা পর্যন্ত জেলার ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ, ফুলবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র ঘুরে তেমন কোনো ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এসব ভোট কেন্দ্রে দু-একজন করে আসছেন আর ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন।

সকাল ৯টায় ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে দেখা গেছে, ভোট গ্রহণকারী কয়েকজন কর্মকর্তা রোদ পোহাচ্ছেন। অলস সময় পার করছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তারা আশা করছেন বেলা বাড়লে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে। ভোটারের অপেক্ষায় আছেন কর্মরত প্রিসাইডিং অফিসার,সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টরা। তবে কোথাও কোথাও প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টর অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেছে।

ফুলবাড়ী সরকারি কলেজ কেন্দ্রে নারী-পুরুষ মিলে ভোটারের সংখ্যা ২ হাজার ৪৩০জন। ভোট গ্রহণের জন্য ৫টি বুথ করা হয়েছে। সকাল ৯টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১৫টি। ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে সকাল ৯.৩০ মিনিট ৯টি বুথে ৩ হাজার ১৭৫ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে ২৬টি।

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা বেড়েছে। চিরিরবন্দর উপজেলার ভোট কেন্দ্র ঘুরে ভোটারের উপস্থিতি কিছুটা লক্ষ করা গেছে।

চিরিরবন্দরের দক্ষিণ হজরতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত ১ হাজার ৯১৯ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে ৫০২ জন।

ফুলবাড়ী উপজেলার নবগ্রাম মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোর্শেদুল আরেফিন বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি অনেক কম। আমরা ভোটারের অপেক্ষায় বসে আছি কিন্তু ভোটাররা না আসলে আমাদের কি করার আছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার খেড়কাটি উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২হাজার ৯৮১ জন। বুথ করা হয়েছে ৮টি। এই আটটি বুথে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ১হাজার ২৭৭টি।

একই চিত্র গেছে খানসামা উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রেও। খানসামা উপজেলার পশ্চিম হাসিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে বিকেল ৩.৫০ মিনিট পর্যন্ত ২ হাজার ২৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে ১হাজার ৩০৬জন। জেলার বিভিন্ন  উপজেলা ঘুরে এমন চিত্র চোখে পড়েছে। বীরগঞ্জ,কাহারোল,বিরলসহ অন্যান্য উপজেলার ভোটের চিত্রও একই।

দিনাজপুরে ১২টি উপজেলায় ৬৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১১ হাজার ২০৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া টহল দিয়েছেন বিজিবি, র‌্যাব স্ট্রাইকিং ফোর্স, পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টিমসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহমুদুর রহমান বলেন,‘ দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একটি বোট কেন্দ্রে জোর পূর্বক কিছু ভোট প্রদান করায় আমরা সেই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছি। আর বাকি সব উপজেলায় মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো সহিংসতা কিংবা কোনো ধরনের গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।