মৌবাক্সে ভরে গেছে ঈশ্বরদীর লিচু বাগান

পাবনার ঈশ্বরদীতে মৌচাষিরা এবার পাঁচ কোটি টাকার মধু বিক্রির আশা করছেন। আসন্ন লিচু মৌসুমকে সামনে রেখে বর্তমান লিচুর মুকুল (ফুল) থেকে মধু আহরণের জন্য ঈশ্বরদীতে অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি বাগানে বাগানে মৌমাছির খামার গড়ে তুলেছেন। মৌচাষিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মধু আহরণের কাজে। গত শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

সরেজমিনে উপজেলার লিচুপ্রধান এলাকা মানিকনগর, মিরকামারী, বক্তারপুর, জয়নগর, ছিলিমপুর, সাহাপুর, বাঁশেরবাদা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা তাদের মৌ-খামার বিভিন্ন লিচুবাগানের অভ্যন্তরে স্থাপন করেছেন। সেখানে তারা প্রতিটি লিচুগাছের চারপাশ ঘিরে মৌমাছির বাক্স সাজিয়ে রেখেছেন। আর মৌমাছি লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করে ওই নির্দিষ্ট বাক্সে জমা করছে। সেখান থেকেই মৌচাষিরা মধু সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করছেন।

ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি সালাউদ্দিন জানান, তার বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে। বাবা বেলায়েত ঢালীর পথ ধরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই মধু সংগ্রহকারী এক যুগ ধরে ঈশ্বরদীতে লিচুর মৌসুমে মধু আহরণের জন্য অস্থায়ী মৌ-খামার নিয়ে আসেন। তার খামারে ১৬০টি মৌমাছির বাক্স রয়েছে। চলতি মৌসুমে এ অস্থায়ী মৌ-খামার থেকে তিন থেকে সাড়ে তিন টন মধু আহরণের আশা করছেন। অপর মৌচাষি ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র আব্দুর রহমান জানান, এ মধু অন্যান্য মধুর চেয়ে অনেক উৎকৃষ্টমানের। প্রতি কেজি মধু ২শ থেকে ২শ ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেন তারা। অপরদিকে, বাগানে লিচুর মুকুলে মৌমাছি ঘুরে বেড়ানোয় পরাগায়ণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগান মালিকরাও বেশ উপকৃত হন। ঈশ্বরদীতে প্রায় ২শ ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামার বিভিন্ন বাগানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বলে জানান ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ।