৩৬ বিলিয়ন ডলার পেয়ে ম্যাকেঞ্জি বিশ্বের তৃতীয় নারী ধনী

বিচ্ছেদে কত সুখ!

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ বেজোসের সঙ্গে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিবাহ বিচ্ছেদে রাজি হয়েছেন তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি বেজোস। এই বিবাহ বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে অ্যামাজনে কার্যনির্বাহী কমিটিতে একক নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন জেফ এবং বিশ্বের ধনী নারীদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে চলে যাচ্ছেন ম্যাকেঞ্জি। গত জানুয়ারিতে এক টুইট বার্তায় ২৫ বছর সংসার করার পর বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন বেজোস দম্পতি। এরপরই মূলত জেফ বেজোসের গোপন প্রেমের খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে।

বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত জটিলতা মিটে যাওয়ার পর জেফ বেজোস টুইট বার্তায় বলেন, ‘অংশীদার, মিত্র এবং মা হিসেবে  ম্যাকেঞ্জি ছিল সত্যিই চমৎকার। সে একজন তথ্যসমৃদ্ধ ও স্নেহময়ী ব্যক্তি হলেও আমাদের ভবিষ্যৎ আলাদা হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি, সবসময়ই আমি তার কাছ থেকে শিখব।’ অন্যদিকে ম্যাকেঞ্জি তার টুইট বার্তায় লেখেন, ‘জেফের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ব্লু অরিজিনসের আমার শেয়ার তাকে দিতে পেরে আমি সুখী।’

অ্যামাজনের সিইও বেজোসের হাতে এতদিন কোম্পানির ১৬.৩ শতাংশ শেয়ার ছিল, যার অর্থমূল্য ১৪৩ বিলিয়ন ডলার। বিচ্ছেদের চুক্তি অনুযায়ী এর ৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পাচ্ছেন ম্যাকেঞ্জি, তবে কোম্পানির বোর্ডে তার ভোটিং ক্ষমতা তিনি বেজোসকেই দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে অ্যামাজনে বেজোসের শেয়ার আর সম্পদের পরিমাণ কমলেও কোম্পানির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আগের মতোই থাকছে।

বেজোস-ম্যাকেঞ্জির সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারের এই বিচ্ছেদ আগের সব রেকর্ডকে মøান করে দিয়েছে। এর আগে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডিভোর্সের রেকর্ড ছিল আর্ট ডিলার অ্যালেক ওয়াইল্ডেনস্টাইন ও তার স্ত্রী জোসেলিনের। ১৯৯৯ সালে সেই ডিভোর্সের রফা হয়েছিল ৩৮০ কোটি ডলারে।

চার সন্তানের বাবা-মা বেজোস আর ম্যাকেঞ্জির সংসার শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে অ্যামাজনের যাত্রা শুরুরও আগে। সে সময় তার দুজনই কাজ করতেন হেজ ফান্ড ডি ইতে। বেজোস অ্যামাজন প্রতিষ্ঠা করলে ম্যাকেঞ্জিও সেখানে যোগ দেন। তিনি ছিলেন অ্যামাজনের প্রথম কর্মীদের একজন। গত বছর অ্যামাজনের বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৩২.৮ বিলিয়ন ডলার। অ্যামাজনের মুনাফা থেকেই বেজোস পরবর্তী সময়ে অন্য ব্যবসায় নামেন।