আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কসংলগ্ন জাজি নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের দুটি পিলার দেবে গেছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করায় এখন তা ঝুঁকিপূর্ণ। ভারতে রপ্তানিপণ্য রড, সিমেন্ট, পাথরসহ ভারী পণ্যের ট্রাকগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। স্থলবন্দরে আসা যানবাহন ও সীমান্তঘেঁষা কয়েকটি গ্রামের মানুষের বহন করা যানবাহনগুলোও চলাচল করছে এ পথে। ব্রিজটির এমন দুরবস্থায় যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরাসহ সেভেন সিস্টার রাজ্যে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রপ্তানি পণ্য নিয়ে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি বোঝাই ট্রাক আসে আখাউড়া স্থলবন্দরে। উপজেলার সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১০ গ্রামের একমাত্র সড়ক এটি। ওইসব গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে ওই পথে চলাচল করে থাকেন। ওই সড়কের গাজীরবাজার এলাকার জাজি নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটির নিচের একটি ইট-সিমেন্টের তৈরি এবং একটি লোহার পিলার দেবে গেছে। ওই দুই পিলার ব্রিজের পাটাতন থেকে তিন-চার ইঞ্চি সরে গিয়ে নিচে দেবে যায়। পাটাতন নিচে দেবে যাওয়ায় পাটাতনের জয়েন্ট খুলে গিয়ে ফাঁকা হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থায় থাকলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।
আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকচালক অহিদ মিয়া বলেন, ধীর গতিতে ব্রিজটির ওপর দিয়ে পারাপার হতে হয়। যেকোনো সময় ব্রিজটিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজটির ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে বন্দরে যাতায়াত করা ট্রাকগুলো পারাপার হচ্ছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শামীম আল মামুন বলেন, আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চার লেন সড়ক প্রকল্পের আওতায় ওই ব্রিজটি। ওই প্রকল্পের দায়িত্ব ব্রিজটি দেখভাল করা।
আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর সড়কের চার লেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সাহারুল আমিন এ ব্যাপারে বলেন, চার লেন প্রকল্পের ধরখার থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটির এখনো টেন্ডার হয়নি। তবে সড়কটি সচল রাখার জন্য ওই প্রকল্প বাস্তবায়নকালে রক্ষণাবেক্ষণ খাত থেকে ব্রিজ মেরামত করা হবে।