বায়ুদূষণ নিয়ে দুই সিটির প্রধান নির্বাহীকে তলব হাইকোর্টের

রাজধানীতে বায়ুদূষণ নিয়ে উচ্চ আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ১৫ মে দুই কর্মকর্তাকে হাজির হয়ে প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্তে শুনানিকালে এ আদেশ দেয়।

রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত ১৩ মার্চ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। এর আগে এ-সংক্রান্ত  হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালককে তলব করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয় হয়।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট হতে না পেরে দুই কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হয়েছে।  

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গত ২৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গত ২৮ জানুয়ারি কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়।

তিন দফা নির্দেশনার মধ্যে ছিলÑ রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ চলছে সেখানে দিনে দুইবার পানি ছিটানো, নির্মাণাধীন কাজের জায়গা ঢেকে রাখা এবং এসব বিষয় বাস্তবায়ন করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সপ্তাহে দুই দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয় আদেশে।

গতকাল আদালতে এইচআরপিবির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নুরুন্নাহার আক্তার নূপুর।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্টের ওই তিন দফা নির্দেশনায় দুই সিটি করপোরেশনের ওপর যে ধরনের নির্দেশনা ছিল তার প্রেক্ষিতে প্রতিবেদন দাখিল করে সিটি করপোরেশন। কিন্তু প্রতিবেদন এবং আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেনি হাইকোর্ট। যে কারণে ১৫ মে দুই নির্বাহী কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওইদিন দুজন প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন।’