গত কয়েক বছর ধরেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদনে আসলের পাশাপাশি ভুয়া আবেদনও জমা পড়ছিল। এ বছর যেন ভুয়া আবেদন জমা না পড়ে সেজন্য বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। কিন্তু এরপরও ভুয়া আবেদন জমা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বুঝতে পারছেন না কীভাবে তার ভর্তির আবেদন অন্যজন করে ফেলছে। ফলে সেই ভুয়া আবেদন বাতিলে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত
থেকে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আসছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। তাদের চাপে এখন দিশেহারা অবস্থা শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের।
এদিকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হতে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের আবেদন কার্যক্রম। এরই মধ্যে ঢাকা বোর্ডে প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ আবেদন জমা হয়েছে। ২৩ মে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রথম ধাপের আবেদন করা যাবে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা জানান, কিছু কলেজ কর্র্তৃপক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ধরে রাখতে শিক্ষার্থীর নামে নিজেরাই আবেদন করে দেয়। এটা যেন তারা না করতে পারে সেজন্য এবার আবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের ভোটার আইডি নম্বর আবেদনে যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়। তারপরও ভুয়া আবেদন হচ্ছে বলে স্বীকার করেছে বোর্ড কর্র্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একাদশের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ভুয়া আবেদনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব আবেদন নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ছুটে আসছেন। তাদের কাছ থেকে লিখিত আবেদন রাখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক ভুয়া ভর্তির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ভুয়া আবেদনকারীদের শনাক্তকাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবেদনের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ৩ লাখ ১৮ হাজার ২৯৭ শিক্ষার্থী মোট ১৫ লাখ ৯২ হাজার ২১৭টি এবং এসএমএসের মাধ্যমে ৪৪ হাজার ৮৯৬ জন ভর্তি ইচ্ছুক মোট ৫২ হাজার ৩৩১টি আবেদন করেছে। আগামী ১০ জুন প্রথম ধাপের আবেদনকারীদের ফল প্রকাশ করা হবে।’ ঢাকা বোর্ডে মোট ছয় লাখের মতো আসন রয়েছে বলেও জানান হারুন অর রশিদ।