মরমি ইসলামের খণ্ডিত মুহূর্ত নিয়ে মাসব্যাপী ‘লাইট ফ্রম দ্য কসমস’

আলোকচিত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিল্প-সংস্কৃতি গবেষক ইমরান ফিরদাউসের একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘লাইট ফ্রম দ্য কসমস’ শুরু হচ্ছে শনিবার বিকেল চারটায়।

রাজধানীর বেগম রেস্তরা ও গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন সংগীতশিল্পী শেখ মনিরুল আলম টিপু। প্রদর্শনীটি কিউরেট করছেন শিল্পী রনি আহম্মেদ। উৎসর্গ করা হয়েছে হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী হাসান (রহ.)-কে।

২০০৩ সালের ১৪ মার্চ সাধক-কবি আবদুল খালেক দেওয়ান মারা যান। তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর দেওয়ান বাড়িতে আশেক-ভক্ত-পাগল-অনুরাগীবৃন্দের সমাগম ঘটে।

প্রদর্শনী সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে খালেক দেওয়ানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওরসের খণ্ডিত চিত্র স্থান পাচ্ছে এই আয়োজনে।

খালেক দেওয়ান বাঙলা ভাবজগতের অন্যতম ব্যক্তি। ঢাকার কেরানীগঞ্জের বামুন সুর গ্রামে ১৯১০ সনে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সাধক আলফু দেওয়ানের মাধ্যমে বাঙলার ভাবগানের ধারায় দেওয়ান ঘরানার সূত্রপাত হয়। সেই পথ অনুসরণ করে মঞ্চে দাঁড়িয়েই গান রচনা ও নতুন সুর সংযোজন করে সঙ্গে সঙ্গে গেয়ে যেতে থাকেন খালেক দেওয়ান। তিনি গানের মধ্য দিয়ে দেহতত্ত্ব, গুরুতত্ত্ব এবং স্রষ্টার সঙ্গে সৃষ্টির যে প্রেমের সম্পর্ক তা তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া তার লেখা ইসলামি গানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রভাব রয়েছে। ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে তিনি একজন শব্দ সৈনিক হিসেবে গান লিখে এবং পরিবেশন করে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।

বামুন সুরের দেওয়ান বাড়িতে তার মাজার অবস্থিত। এই সাধকের জন্মবার্ষিকীর ওরসকে কেন্দ্র করে সারা রাত জুড়ে চলে বাউল গানের আসর; যার সমাপ্তি ঘটে ফজরের ওয়াক্তের পর সংগীত-বাদ্যের মাতম দিয়ে।

প্রদর্শনী সূত্র জানায়, আলোকচিত্রে জমে থাকা খণ্ডিত মুহূর্তগুলো বলে যায় মরমি ইসলাম আর ইসলামের মারেফতির প্রতি মানুষের আগ্রহ, উদ্দীপনা আর সংযুক্তির কথা। মোবাইল ক্যামেরায় তোলা এই আলোকচিত্রমালা মূলত নজর করেছে প্রচলিত ইসলামের সমান্তরালে জারি থাকা অন্যতর মারেফতি ইসলামের আচার-রীতি-প্রথার লালন ও পালন।

আলোকচিত্রী ইমরান ফিরদাউস বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনিতে ফরাসি চলচ্চিত্র-নির্মাতা গাসপার নোয়ের ওপর পিএইচডি করছেন।

প্রদর্শনীর সময় প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা। চলবে ২২ জুলাই পর্যন্ত।