৫০ হাজার টাকার লোভে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুন করে ৩ বন্ধু

মাত্র ৫০ হাজার টাকার লোভে নারায়ণগঞ্জের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুলকে পরিকল্পিতভাবে বরিশালে নিয়ে খুন করে ৩ বন্ধু। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার হওয়া আবুল তালুকদার এমনটাই জানিয়েছেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দীতে আবুল জানান, ঋণ শোধের জন্য বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা এনেছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। তবে তার আরও টাকার প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি তিনি আবুলসহ তিন বন্ধুকে জানান। এরপর বন্ধুরাই ওই ৫০ হাজার টাকার লোভে খুন করেন নজরুলকে।

এ ঘটনায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুলের ছেলে মুন্না চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে ৭ জুন উজিরপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার ১৭ দিন পর আবুলকে রবিবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অপর দু’জনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সোমবার সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম আবুলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে বলেন, “৭ জুন সন্ধ্যায় উজিরপুরের মুঙ্গাকাঠি গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তারা লাশের পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর হত্যার ক্লু উদঘাটন করে উজিরপুর থানা পুলিশ। এর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আবুলকে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুল জানান, স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুলের দোকানের পাশেই করতোয়া ও এসআর কুরিয়ার সার্ভিসে শ্রমিকের কাজ করতেন আবুল ও তার দুই বন্ধু। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে নজরুলের সঙ্গে তাদের সখ্যতা গড়ে উঠে। নজরুল ব্যবসা করতে গিয়ে ঋণ হয়ে যাওয়ায় মে মাসের শেষের দিকে গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রি করে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন।

আরও টাকার প্রয়োজনের বিষয়টি আবুলসহ বাকি বন্ধুদের জানান তিনি। এসময় আবুল তাকে বলেন, তার স্ত্রী উজিপুরে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা লোন করে দিতে পারবে। তবে লোন করতে হলে ব্যাংকে আগের পাওনা ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। সে মোতাবেক ২ জুন ঢাকা থেকে তারা চারজন বরিশাল যায়। বিকেল ৫টায় তারা উজিরপুর উপজেলার ইচলাদি বাসস্ট্যান্ডে নামে। কিন্তু নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করে অন্ধকার নামার অপেক্ষা করতে থাকে। পরে সেখান থেকে মাহেন্দ্রা করে মুগাকাঠী মোল্লাবাড়ী নেমে তারা হাঁটতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ভরতের ভিটায় পরিত্যক্ত বাড়ির জঙ্গলে ঢুকলে নজরুল কিছুটা বিচলতি হয়ে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করে তারা কোথায় যাচ্ছে। আবুল বলেন, জঙ্গল পার হলেই তার বাড়ি। কথা বলতে না বলতেই অপর দুই সহযোগী পেছন থেকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন নজরুলকে। এরপর তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকাসহ সবকিছু নিয়ে কচুরিপানা ভর্তি ডোবায় পেট কেটে ডুবিয়ে দেয়।

এদিকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন ও মূল আসামি গ্রেপ্তারের পর শহরের বাবুরাইলের বাড়িতে নিহতের ছেলে ও মামলার বাদী মুন্না চৌধুরী বলেন, “আমি আগেই বলেছিলাম আমার বাবাবে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এখন আমাদের একটাই দাবি খুনিদের ফাঁসি চাই।”