লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকায় মৃত্যুবরণ করা ইমরান খান সুজনের মরদেহ পৌঁছেছে পরিবারের কাছে। রোববার সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুরে আনা হয় মরদেহটি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম মঞ্জুরুল হক আকন্দ।
নিহত ইমরান খান সুজন উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের কেদারপুর গ্রামের আবদুল মান্নান খানের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে ইমরানই বড়।
ইমরান খান সুজনের ছোট ভাই শোভন খান জানান, ২০১৮ সালের মার্চ মাসে দালালের প্রলোভনে সুদানে পাড়ি জমান ইমরান খান সুজন। পরে সেখান থেকে লিবিয়া যান। ছয় মাস পর গত বছরের ২৯ আগস্ট লিবিয়া থেকে অভিবাসীবাহী নৌকায় ইতালি যাওয়ার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে পৌঁছলে নৌকার তেল, সঙ্গে থাকা পানি ও খাবার ফুরিয়ে যায়।
পাঁচ দিন পর অন্যান্যদের সঙ্গে ইমরানও খাবার না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নৌকাতেই মারা যান তিনি। পরবর্তীতে তাদের বহনকারী নৌকাটি ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলীয় দেশ মাল্টায় পৌঁছালে মৃত ও জীবিত থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করেন দেশটির কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
পরে মরদেহটি মাল্টার মর্গে রাখা হয়। তিন মাস পর পরিবার ইমরানের মৃত্যুর খবর পায়। নড়িয়ার ইতালি প্রবাসীরা ইমরানের মরদেহটি সনাক্ত করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ইমরানের মরদেহ দেশে আনা ব্যয়বহুল জেনে স্বজনরা মরদেহ দেশে আনতে অনীহা প্রকাশ করেন। শেষে এগারো মাস মর্গে থাকার পর ইতালি প্রবাসীদের সহায়তায় মাল্টার মর্গ থেকে তার মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়।
শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটের সময় ইমরানের মরদেহ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায়। এরপর রোববার সকাল ৯টার দিকে শরীয়তপুরের গ্রামের বাড়িতে ইমরানের মরদেহ নিয়ে আসেন স্বজনরা। বেলা ২টার দিকে ইমরানের নামাজের জানাজা শেষে নড়িয়া মুলফতৎগঞ্জ মাদরাসা সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে ইমরানকে যারা ইতালি যাবার প্রলোভন দেখিয়ে নৌকায় তুলেছিল, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন নিহতের ভাই শোভন খান।