পিরোজপুরে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে হত্যা ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলার আসামি আ. জলিল হাওলাদার (৪৫) ওরফে ‘রগকাটা’ জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, গত বুধবার রাতের আঁধারে জলিলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে গৃহবধূ নাসরিন সুলতানা স্বর্ণাকে (২৩) গলা কেটে

হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পূর্বটেংরি গোরস্থান পাড়া এলাকার মনিরুল ইসলাম জনির স্ত্রী। তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ইন্দুরকানীতে নিহত জলিলের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে কালাইয়া গ্রামের বাড়ি থেকে স্থানীয় দুই যুবক জলিলকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিলবাড়ি নামক স্থানে সতীশ চন্দ্র মণ্ডলের বাড়িতে শিবেশ্বরের ঘরের পাশে তার রক্তাক্ত দেহ পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, জলিল কালাইয়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের ছেলে। তার ঘাড়, হাত, মাথা ও পিঠে ৯টি কোপের চিহ্ন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ইন্দুরকানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আহমেদ মাইনুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাসনিম তামান্না বলেন, ‘স্বর্ণার গলার রগ কাটেনি। রোগী এখন শঙ্কামুক্ত।’ হাসপাতালে স্বর্ণা জানান, রাতে তিনি জানালা খুলে পাশের খাটে বসে গল্পের বই পড়ছিলেন। এ সময় কে বা কারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কাটার চেষ্টা করে। তখন হাত টেনে ধরে চিৎকার করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। তার স্বামী জানান, এলাকায় তার কোনো শত্রু  নেই। কে বা কারা কেন এ কাজ করেছে তা নিশ্চিত নন তিনি।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটিতে ব্যক্তিগত কোনো বিষয় থাকতে পারে। এর আগেও জানালা দিয়ে ওই গৃহবধূ স্বর্ণার চেইন ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে। পরিবারটির পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া না গেলেও এ ঘটনার তদন্ত চলছে।’ এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলেও জানান তিনি।