যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত পাঁচ দিন ধরে বিকল হয়ে আছে ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটের কনকচাঁপা ও কৃষাণী নামে দুটি ফেরি। এতে ঘাটের দুপাড়েই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোলা ও লক্ষ্মীপুর দুই ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল ছয় শতাধিক যানবাহন।
স্থানীয়রা জানায়, ভোলার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৬ জেলার সহজ যোগাযোগমাধ্যম ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট। কনকচাঁপা, কলমিলতা ও কৃষাণী নামে তিনটি ফেরি এ রুটে নিয়মিত চলাচল করছিল। গত ২২ ও ২৩ জুলাই কনকচাঁপা ও কৃষাণী নামে ফেরি দুটি যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে যায়। অন্য ফেরিটি সচল থাকলেও তা যানবাহনের চাপ সামলাতে যথেষ্ট না হওয়ায় উভয়পাড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত মঙ্গলবার এই রুটে নতুন একটি ফেরি যোগ করা হলেও যানবাহনের চাপ কমানো সম্ভব হয়নি।
আটকাপড়া ট্রাকচালক মো কালাম বলেন, প্রায়ই তাদের এই রুটে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ রুটে নিয়মিত চার-পাঁচটি ফেরি চালু করলে ভোগান্তি কমবে। কাভার্ড ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। সেবার মান বাড়াতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।
ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি বাস্তবায়ন ও ভোলা স্বার্থ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ অপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ব্যবসায়ীদের কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহনের জন্য ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম এই রুট। এখানে কমপক্ষে পাঁচটি আধুনিক ফেরি না দিলে দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।
বিআইডব্লিউটিসির ভোলা ঘাটের ম্যানেজার ইমরান খান সাংবাদিকদের জানান, বিকল হওয়া ফেরিগুলো সচল করার চেষ্টা চলছে। ফেরি দুটি চালু হলেই সমস্যার সমাধান হবে।