সারা দেশে বৃষ্টির কারণ মৌসুমি বায়ু ও লঘুচাপ

দেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সারা দেশেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। লঘুচাপের কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশের চার প্রধান সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা জারি রয়েছে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণের পাশাপাশি ভূমিধসের শঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। তবে আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবার সারা দেশেই বৃষ্টির মাত্রা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক গতকাল শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপ সৃষ্টি হলে বায়ুতে আর্দ্রতার জোগান বেশি হয়। ফলে বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চরণশীল মেঘমালার তৈরি হয়। এর প্রভাবেই সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের বৃষ্টি সাধারণত ৩, ৫, ৭, ৯ অথবা ১১ দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আগামী দুদিন (শনি ও রবিবার) বৃষ্টি কমতে পারে।’ সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি নিম্নচাপ বা সাইক্লোনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা খুব কম। শনিবার এ-সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

গতকাল সারা দেশেই মোটামুটি বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় সন্দ্বীপে ১১৭ মিলিমিটার। একই সময়ে অতি ভারী বৃষ্টি হয় কক্সবাজারে ৮৯ মিলিমিটার। এ ছাড়া টেকনাফে ৮৬ ও বরিশালের খেপুপাড়ায় ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয় । ঢাকা বিভাগের মধ্যে গোপালগঞ্জে হয় ৬২ ও রাজধানীতে ৩৬ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় কোথাও ৪৪-৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী এবং এর চেয়ে বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়।

অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় আজ শনিবার বিকেল অব্দি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

অন্য এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এতে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।