উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ ৩ গুণ বাড়ছে

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ প্রায় তিনগুণ বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে মৃত যাত্রীর উত্তরাধিকারী ক্ষতিপূরণ পান ৫০ হাজার ইউএস ডলার। ‘আকাশ পথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন, ২০১৯’ পাস হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬০ ডলার। আইনের খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে।

জানা গেছে, আইনের খসড়ায় আকাশ পরিবহনের ক্ষেত্রে মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ওয়ারশ কনভেনশন অনুসরণ করে। মন্ট্রিল কনভেনশন অনুসরণ করা হলে উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় যাত্রী মারা গেলে তার উত্তরাধিকারী প্রায় তিনগুণ বেশি অর্থ পাবেন। মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী, যাত্রীর মৃত্যু বা আঘাতের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপে আদায়যোগ্য অর্থের পরিমাণ ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৬০ ইউএস ডলার; যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা। এই ক্ষতিপূরণ পেতে যাত্রী বা উত্তরাধিকারীকে কোনো কিছু প্রমাণের প্রয়োজন হবে না। প্রথম ধাপে যাত্রী আরও বেশি ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। তবে এ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে পরিবহনকারী কর্র্তৃপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, মন্ট্রিল কনভেনশনের আলোকে আইনটি করা হচ্ছে। আকাশপথে পরিবহনকালে দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে জানমালের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ারশ কনভেনশনের প্রটোকলসমূহে বর্ণিত বিধানাবলি পরিবর্তন ও আধুনিকায়নের জন্য ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে এ কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। কনভেনশন স্বাক্ষরের পর ওই কনভেনশনের আলোকে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে জানমালের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য পরিমাণ ও পদ্ধতি উভয় ক্ষেত্রেই যাত্রীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ আইন না থাকায় নেপালে সংঘটিত দুর্ঘটনায় ইউএস-বাংলার যাত্রীর স্বজনরা যথাযথ ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। কারণ তাদের ওয়ারশ

কনভেনশন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। ওয়ারশ কনভেনশন অনুযায়ী, মৃত যাত্রীর উত্তরাধিকারীরা ৫০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ পান।

তারা আরও জানিয়েছেন, খসড়া আইনে যাত্রী, ব্যাগেজ ও কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোর দায়-দায়িত্ব সুস্পষ্ট করা হয়েছে। কোনো যাত্রীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার পারিবারিক সদস্য বা বৈধ প্রতিনিধিত্বকারীদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করে দেওয়া হবে। পরিবারের সদস্য বলতে স্ত্রী অথবা স্বামী, মাতা-পিতা, ভাই-বোন, নাতি-নাতনি, সৎ মাতা-পিতা, দাদা-দাদি, সৎ ভাই-বোন ও সৎ সন্তানকে বোঝাবে। এ আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০০ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। উড়োজাহাজ যাত্রীর অধিকার সুরক্ষা, মালামাল পরিবহন নিশ্চিত করা এবং মৃত্যুর কারণে যাত্রীর পরিবারকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ সহজ করার জন্য এ আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়ারশ কনভেনশন সংক্রান্ত প্রটোকলের আলোকে উড়োজাহাজে আরোহণকারী যাত্রীর অধিকার রক্ষায় দেশে বর্তমানে তিনটি আইন রয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ ‘দ্য ক্যারেইজ বাই এয়ার অ্যাক্ট, ১৯৩৪’, ‘দ্য ক্যারেইজ বাই এয়ার (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন) অ্যাক্ট, ১৯৬৬’ এবং ‘দ্য ক্যারেইজ বাই এয়ার (সাপ্লিমেন্টারি কনভেনশন) অ্যাক্ট, ১৯৬৮’। উড়োজাহাজে যাত্রী, ব্যাগেজ এবং কার্গো বহন করা হয়। এ সময় যাত্রীর মৃত্যু হতে পারে, আঘাত পেতে পারেন। যাত্রীর লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। অনেক সময় যাত্রীর ব্যাগ হারিয়ে যায়। অনেক সময় কার্গো বা মালামাল পরিবহনেও সমস্যা হয়। কার্গো পেতে দেরি হয়, হারিয়ে যায় অথবা ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসব ক্ষেত্রে যাত্রীরা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ পান। ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক সময় বিলম্বও ঘটে। এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে নতুন আইন করা হচ্ছে।