ফাইভজি নীতিমালা জানুয়ারিতে

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফাইভজি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি আগামী জানুয়ারিতে ফাইভজি-সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮-এর লক্ষ্য ও পরিকল্পনায় ‘২০২১-২৩ সালের মধ্যে ফাইভজি চালু করা হবে’ মর্মে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ধারাবাহিকতায় সরকার শিগগিরই ফাইভজি সেবা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবার সর্বশেষ সংস্কর হলো ফাইভজি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোরজি প্রযুক্তি অপেক্ষা নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি বহুগুণ বাড়ানো যায়। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহক প্রতি ডাটা রেট, স্পেকট্রাল ইফিসিয়েন্সিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের মাত্রা বহুগুণে উন্নত হবে। এ সেবা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২৮ গিগাহার্জ ব্যান্ডে ফাইভজি সার্ভিসের ওপর ভেন্ডর কর্তৃক একটি ডেমোনেস্ট্রেশন প্রদর্শন করা হয়েছে। বর্তমানে ২.৬ গিগাহার্জ, ৩.৫ গিগাহার্জ ইত্যাদি ব্যান্ড ফাইভজি সার্ভিসের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড হিসেবে বিবেচিত।

দেশে ফাইভজি সেবা প্রবর্তনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা ও একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য গত ৪ আগস্ট সরকার, বিটিআরসি ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতিনিধির সমন্বয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাবনা (ফাইভজি প্রবর্তনের রূপরেখা, সম্ভাব্য তরঙ্গ, সম্ভাব্য তরঙ্গমূল্য এবং বাস্তবায়ন সময়কাল ইত্যাদি) প্রণয়ন করবে। সেই সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করবে। আশা করা যায়, ওই কমিটি আগামী বছরের জানুয়ারি নাগাদ নীতিমালাটি প্রণয়ন করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমনÑ দক্ষিণ কোরিয়া, আয়ারল্যান্ড, স্পেন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি দেশে ফাইভজি প্রযুক্তির লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির জন্য শুধু তরঙ্গের প্রাপ্যতাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকাও আবশ্যক।