অবৈধ অনুপ্রবেশের পর গত ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থান করছে দুটি বিদেশি জাহাজ। এগুলো থাইল্যান্ডের মাছ ধরার জাহাজ জানিয়ে কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের শিপিং এজেন্টের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাই করা হয়েছে এবং সেগুলো সঠিক পাওয়া গেছে।
তবে কেউ কেউ বলছে জাহাজ দুটি ভারতের।
কোস্টগার্ডের পূর্ব জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২১ আগস্ট থেকে থাইল্যান্ডের জাহাজ দুটি আমাদের জলসীমায় রয়েছে। জাহাজ দুটি বর্তমানে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে। তারা মেরামতের জন্য এসেছে বলে আমরা জেনেছি। তাদের ফিশিং এজেন্ট আমাদেরকে যে নথিপত্র দিয়েছে, তা যাচাই করেও সঠিক পাওয়া গেছে।’ জাহাজ দুটি ফেরত যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কবে ফেরত যাবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মেরামতের কাজ শেষ হলে নিয়ম অনুসারে সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব তৌফিকুল আরিফ বলেন, ‘আমাদের জলসীমায় মাছ ধরার দুটি বিদেশি জাহাজের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। শুনেছি সেগুলো মেরামতের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এখানে এসেছে? সেগুলো কোন দেশের? কাগজপত্র দেখে আমরা সে বিষয়ে নিশ্চিত হব। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজ দুটির বিষয়ে করণীয় নিয়ে আজ রবিবার মন্ত্রণালয়ে সভা হবে। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার প্রতিনিধিরা থাকবেন। বৈঠকে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন এম শফিউল বারী বলেন, ‘জাহাজ দুটির বিস্তারিত জানা নেই। রবিবার সচিবালয়ের মিটিংয়ে গেলে হয়তো জানতে পারব।’
১৮
একুশে পদকপ্রাপ্ত মংছেনচীং মংছিন আর নেই
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
একুশে পদকপ্রাপ্ত গবেষক, সাহিত্যিক ও মানবাধিকারকর্মী মংছেনচীং মংছিন (৫৮) আর নেই। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় রাঙ্গামাটির তবলছড়ি এলাকায় নিজের মেয়ের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ বিকেলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি শ্মশানে তার শেষকৃত্য
সম্পন্ন হবে।
তার ভাগ্নে টিপলু দেশ রূপান্তরকে জানান, ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন মংছেনচীং। এ কারণে দীর্ঘদিন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন তিনি।
মংছেনচীং মংছিংয়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, অরণ্যবার্তা সম্পাদক চৌধুরী আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গবেষকের জন্ম ১৯৬১ সালে কক্সবাজার জেলার রাখাইনপাড়ায়। রাখাইন, ত্রিপুরা, মারমাসহ পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণ ছিল তার গবেষণা ও লেখালেখির মূল বিষয়। মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও বিভিন্ন সময় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সাহিত্য ও লেখালেখিতে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বেসামরিক সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন মংছেনচীং। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও গবেষণার জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নিয়মিত লিখতেন রাঙ্গামাটিভিত্তিক দৈনিক পত্রিকা দৈনিক গিরি দর্পণ ও সাপ্তাহিক বনভূমিতে (অধুনালুপ্ত)।
১৯৮৪ সালে স্কুল শিক্ষিকা শোভা রানী ত্রিপুরাকে বিয়ে করেন মংছেনচীং মংছিন। এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। শোভা রানী নিজেও একজন সাহিত্যিক। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।