নওগাঁয় আউশ ধানের ভালো ফলন হয়েছে। পাকা ধান কাটতে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কম দামে ইরি, বোরো ধান বিক্রির ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আশা করছেন তারা। উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রয়মূল্য কম হওয়া নিয়ে এ মৌসুমের শুরুতেই চিন্তিত অনেকে। ধানের ন্যায্যমূল্য পেতে ইউনিয়নে কেন্দ্র খুলে সরকারিভাবে ধান কেনার দাবিও করেছেন কেউ কেউ। তবে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের দাবি, তুলনামূলকভাবে বোরোর চেয়ে আউশের উৎপাদন খরচ কম। আর মৌসুমের আরও কয়েক দিন গেলে ধানের দাম বাড়তে পারে।
একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষে খরচ হয় ১১-১২ হাজার টাকা। আর বিঘাপ্রতি ধান উৎপাদন হয় ১৫ থেকে ১৬ মণ। বাজারে এই ধান মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ থেকে ৫৭০ টাকা। উৎপাদন থেকে শুরু করে ধান কাটা, মাড়াই সব মিলিয়ে যে খরচ হয়; বিক্রি করে সেই খরচ উঠছে না বলে হতাশ কৃষকরা।
নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল হক বলেন, আউশ ধানে বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। লোকসান কাটাতে সরকারিভাবে প্রতি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র খুলে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার দাবি জানান তিনি।
মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর ইউনিয়নের কৃষক সামসুল আলম বলেন, প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা আর একজন দিনমজুরকে দিতে হয় ৫০০ টাকা। এজন্য আমরা আর ধান করব না। ধানের জন্য ভারি কষ্ট পাচ্ছি। এখন তেমন মজুরও পাওয়া যায় না। কৃষক আছির উদ্দিন বলেন, গত বোরো ধানে প্রতি বিঘায় পাঁচ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে। ভাবছিলাম আউশ ধানে ভালো দাম পাব। ধানের ফলন ঠিকই হয়ছে, কিন্তু দাম নেই।
মহাদেবপুর লিচু বাগান ধান হাটে গিয়ে দেখা যায়, পারিজা ধান বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৫৫০-৫৬০ টাকা। আর জিরাশাইল সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। হাটে আসা ভালাইন গ্রামের কৃষক এমদাদুল হক জানান, রোদে শুকানো পরিষ্কার ভালো দানার পারিজা ধান ৫৬০ টাকায় বিক্রি করলাম। আর ধান মাড়াই কাজের জন্য একটা কৃষাণের মজুরি ৫০০ টাকা। লাভ তো দূরের কথা ধান ফলাতে যে খরচ হয়েছে সেই পরিমাণ টাকাও পেলাম না। হাটে ধানের তেমন ক্রেতাও দেখা গেল না।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় আউশ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭১ হাজার ৫৫৭ হেক্টর। আর উৎপাদন হয়েছে ৬৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এবার আউশ ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কাক্সিক্ষত দাম না পেলেও কৃষকের খুব ক্ষতি হবে না। তুলনামূলকভাবে আউশ ধানের উৎপাদন খরচ কম। বোরো ধানের আবাদ কমিয়ে দিয়ে আউশ ধানের আবাদ করলে বৃষ্টির মাধ্যমে অনেকটা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচও কম হবে। অল্প কয়েক দিন আউশ ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর কিছু দিন পর হয়তো ধানের দাম বাড়তে পারে।
প্রসঙ্গত, বিগত দুই বছরে নাটোরে বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ১৫ থেকে ১৬ মণ আউশ ধান। গত বছর শুরুর দিকে প্রতি মণ আউশ ধানের দাম ছিল ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তবে গত বছরের আগের বছর মণপ্রতি আউশ ধানের দাম ছিল ৭০০ টাকা।
মজুরি ও অন্যান্য খরচের ওপর ধানের উৎপাদন খরচ নির্ভর করে। গত বছর উৎপাদন খরচ ছিল প্রতি বিঘায় ১০-১১ হাজার টাকা। চলতি বছর তা হয়েছে ১১-১২ হাজার টাকা।