বরেণ্য চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকারের মরদেহ সোমবার সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যবস্থাপনায় সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।
এর আগে সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে।
দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।
তিনি বলেন, “প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় রবিবার সকালে মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। কিন্তু কালিদাস কর্মকারের দুই মেয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। তারা সেখান থেকে রওনা করেছে। ১৫ ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্বের কারণে তাদের পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। এ জন্য একদিন পিছিয়ে সোমবার সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
শুক্রবার দুপুরে মৃত্যুবরণ করেন কালিদাস কর্মকার। এদিন দুপুরে ইস্কাটনের বাসার বাথরুমে গোসল করতে গিয়ে পড়ে যান। পরে সেখানে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ রাখা হয় বারডেমের হিমাগারে।
নব্বইয়ের দশকে নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী কাজ এবং পারফরমিং আর্ট ও স্থাপনা শিল্পের জন্য আলোচিত হন এ চিত্রশিল্পী। দেশে-বিদেশে আয়োজিত শিল্পী কালিদাসের একক চিত্র প্রদর্শনীর সংখ্যা এ দেশের চারুশিল্পীদের মধ্যে সর্বাধিক। জীবদ্দশায় ৭১টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বহু আন্তর্জাতিক দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেছেন।
নন্দিত এই চিত্রশিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সংস্কৃতি অঙ্গনে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ে তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাস লিখেছেন।
বাংলাদেশে ছাপচিত্র-শিল্পের প্রচার ও প্রসার আন্দোলনে গ্রাফিকস আঁতেলিয়ার-৭১-এর মাধ্যমে কালিদাস কর্মকারের ভূমিকা স্মরণীয়। ভারত, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, কোরিয়া, আমেরিকাতে আধুনিক শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চতর ফেলোশিপ নিয়ে সমকালীন চারুকলার নানা মাধ্যমে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় এ শিল্পীর ৭১তম একক প্রদর্শনী। অ্যাথেনা গ্যালারির আয়োজনে ‘পাললিক অনুভব’ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয় শিল্পীর ৭১তম জন্মদিন উপলক্ষে। প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন মাধ্যমে করা ৭১টি শিল্পকর্ম দিয়ে।
কালিদাস কর্মকার ১৯৪৬ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। কালিদাসের বাবা হীরালাল কর্মকার ও মা রাধারানী কর্মকার। শৈশবেই তিনি ছবি আঁকতে শুরু করেন। স্কুল জীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে ১৯৬৩-৬৪ সালে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফট থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। জীবদ্দশায় তিনি একুশে পদক ছাড়াও শিল্পকলা পদক, সুলতান স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।