স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সুন্দরবন এখন দস্যুমুক্ত। এ সুন্দরবনকে যারা আবারও অশান্ত করার জন্য উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাটের শেখ হেলাল উদ্দীন স্টেডিয়ামে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণার এক বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
২০১৬ সালের ৩১ মে থেকে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে সুন্দরবন ও সাগরে দস্যুবৃত্তিতে জড়িত ৩২টি বাহিনীর ৩২৮ জন সদস্য ৪১২টি দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও ১৭ হাজার গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করে। ‘মাস্টার বাহিনীর’ প্রধান মো. মোস্তফা শেখ ওরফে কাদের মাস্টারের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সরকারের এ উদ্যোগ শুরু হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি ছেড়ে যেসব দস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন তাদের মতো উসকানি দেওয়ারাও নিজেদের শোধরান। তা না হলে আপনাদের পরিণতিও হবে ভয়াবহ। কেউ ছাড় পাবেন না।’ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা দস্যুদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনে ভব্যিষতেও সরকারি সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমরা দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে পেরেছি। দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতিতে আছেন। মাদক নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে আমরা তাতেও সফল হব।’
অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণ করা ‘মাস্টার বাহিনীর’ প্রধান কাদের মাস্টার বলেন, ‘তিন বছরের অধিক সময় হলো সুন্দরবনের দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছি। অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভালো আছি, ব্যবসা করছি। সুন্দরবনে এখন চাঁদাবাজি-অপহরণ নেই। জেলে-বাওয়ালিরা নির্ভয়ে মাছ শিকার করছে। বলতে পারেন সুন্দরবন ৯৯ ভাগ দস্যুমুক্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় এক প্রভাবশালীর চাপে পড়ে সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে ছিলাম। সুন্দরবনের দস্যুবৃত্তিতে যে প্রভাবশালীরা সহযোগিতা করেছে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।’
একাধিক জেলে বলেন, গত তিন বছর ধরে আমরা নির্বিঘ্নে সাগরে মাছ শিকার করি। এখন আর কাউকে চাঁদা দিতে হয় না। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারকে নজরদারি করারও আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে অবদান রাখার জন্য সাংবাদিক ও র্যাব কর্মকর্তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শামছুল হক টুকু ও সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, বাগেরহাট-৪ আসনের এমপি ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন ও র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।