কয়রায় ৮ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, বেড়িবাঁধে ফাটল

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ তা-ব চালিয়েছে খুলনার কয়রায়। ঝড়ের আঘাতে কয়রা সদরসহ উপজেলার সাত ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় আট হাজার ঘরবাড়ি। হাজারো গাছপালা ভেঙে গেছে। ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে অধিকাংশ মাছের ঘের ও ফসলি জমি। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে অধিকাংশ এলাকায়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা উপজেলা। সব মিলিয়ে কয়রাবাসী পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। ওই সাত ইউনিয়ন হলো মহেশ^রীপুর, কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশী, দক্ষিণ বেদকাশী, আমাদি, মহারাজপুর ও বাগালি।

এলাকাবাসী জানায়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে দক্ষিণ বেদকাশী সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ইউনিয়নজুড়ে ক্ষতির ছাপ স্পষ্ট। ছোট-বড় অসংখ্য গাছ ভেঙে পড়েছে। গাছগুলো সড়কের পাশে ও বাড়ির ওপর ভেঙে পড়েছে। অনেকের বসতবাড়ি ও মাছের ঘের বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পাউবোর জোড়শিং, আংটিহারা, মেদেরচর, চোরামুখা ও ঘড়িলাল বেড়িবাঁধে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়রার হরিণখোলা, গোবরা, ঘাটাখালী, মদিনাবাদ লঞ্চঘাট, মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা, মঠবাড়ি, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের গীলবাড়ি, শেখেরটেক এলাকায় বেড়িবাঁধে ভাঙন ধরেছে।

সদরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাফর রানা বলেন, সাতটি ইউনিয়নের অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ে এসব ইউনিয়নের আধা পাকা ঘরবাড়ি এবং গাছপালা বেশি ভেঙে গেছে। তবে কোথাও বেড়িবাঁধ ভাঙেনি। এ ছাড়া অধিকাংশ সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়কের গাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

বেসরকারি একটি সংস্থার তথ্যমতে কয়রায় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ২ হাজার ৮০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ৪ হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজার ৭২০ হেক্টর জমির আমন ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি ১৬০ হেক্টর জমির সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউপির চেয়ারম্যান জিএম কবি শামছুর রহমান বলেন, ‘ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ গাছ ও বাড়ি ভেঙে গেছে। অনেকের বসতবাড়ি ও ঘের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ বেড়িবাঁধে ফাটল ধরেছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছি আমরা কয়রাবাসী।’

কয়রা সদর ইউপির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে শীতকালীন সবজির ক্ষেত, ধানক্ষেত, মৎস্য ঘেরসহ ফসলি জমি। এসব জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে করে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।

উত্তর বেদকাশী ইউপির চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানী বলেন, গাজীপাড়া, কাটকাটা, গাববুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার পাউবোর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। যে কারণে ভাঙনকবলিত এলাকার জনসাধারণ রয়েছে আতঙ্কে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বুলবুলের আঘাতে কয়রায় ৩ হাজার ২৪০টি মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৪৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, কয়রার সাতটি ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারিভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতা করা হবে।