হত্যার আলামত পায়নি পুলিশ

আত্মহত্যা করেছেন রুম্পা!

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা (২১) নিজেই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তাকে  ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা দাবি করলেও এর পক্ষে কোনো আলামত খুঁজে পায়নি পুলিশের তদন্ত দল। রুম্পার সাবেক প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার রাজীব আল মাসুদ দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে, শুরু থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলেও আমাদের তদন্তে খুনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’ রুম্পাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এতে জড়িত এমন সন্দেহে গ্রেপ্তার করা তার সাবেক প্রেমিক সৈকতকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ শুক্রবার আদালতে হাজির করা হবে বলেও জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তকারী আরেক কর্মকর্তা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সৈকতসহ একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, রূম্পা আয়েশা কমপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে ওই ভবনের বাসিন্দা এক বন্ধবীর কাছে গিয়েছিলেন রুম্পা। সেখানে গিয়ে কান্নাকাটির পর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হলেও তিনি বাসায় না গিয়ে ছাদে ওঠেন। পরে ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন রুম্পা।’

তদন্তসংশ্লিষ্ট অন্য আরেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আয়েশা কমপ্লেক্স ভবনের ছাদে পাওয়া পায়ের ছাপ রুম্পারই ছিল। সেখানে আর কারও পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কি না তা-ও পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না।’

এর আগে গত রবিবার গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের কাছে পাঠানো পুলিশ প্রতিবেদনে রুম্পা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এমন সন্দেহ করে তার সাবেক প্রেমিক সৈকতকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান। তার আগের দিন সৈকতকে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি দল।

রুম্পা স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাজধানীর শান্তিবাগে একটি ফ্ল্যাটে মায়ের সঙ্গে থেকে পড়াশোনা করতেন রুম্পা ও তার ছোট ভাই। তার বাবা মো. রুকুন উদ্দিন হবিগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন রুম্পা। ৪ ডিসেম্বর টিউশনি শেষে বাসায় ফেরেন। এরপর বাইরে কাজ আছে বলে আবার বাসা থেকে বের হন। কিন্তু এরপর রাতে আর বাসায় ফেরেননি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। ওই দিনই রাত পৌনে ১১টার দিকে রুম্পার লাশ ৬৪/৪ সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের বাসার সামনে থেকে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরদিন মাসহ স্বজনরা রমনা থানায় গিয়ে লাশের ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেন।