ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভিটা ভাঙার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান ১২ নির্মাতার

চিত্র পরিচালক ঋত্বিক ঘটকের পিতৃ ভিটা ভেঙে ফেলায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকার ১২ চলচ্চিত্র নির্মাতা।

‘তিতাস একটি নদীর নাম’ নির্মাতার আদি বাড়ির একটি অংশ ভেঙে অস্থায়ী সাইকেল গ্যারেজ করছে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।

ইতিমধ্যে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র সংগঠনের কর্মীরা। তারা গ্যারেজ নির্মাণ না করার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হলেন ১২ চলচ্চিত্র নির্মাতা।

বিবৃতিদাতারা হলেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, তানভীর মোকাম্মেল, মানজারে হাসীন মুরাদ, মোরশেদুল ইসলাম, এনায়েত করিম বাবুল, জাহিদুর রহিম অঞ্জন, শামীম আক্তার, নূরুল আলম আতিক, এন রাশেদ চৌধুরী, ফওজিয়া খান, আকরাম খান ও রাকিবুল হাসান।

সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসানের পাঠানো ওই বিবৃতি বলা হয়- “বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক বাড়ি রাজশাহীর মিঞা পাড়ার ভবনটি ভেঙে ফেলার ঘৃণ্য উদ্যোগকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে একটি ‘ঋত্বিক চলচ্চিত্র কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা দেশের চলচ্চিত্র কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু সামরিক শাসন এবং স্বৈর শাসনকালে সে স্থানে একটি হোমিওপ্যাথ কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।”

আরও লেখা হয়, “রাজশাহীর ‘ঋত্বিক চলচ্চিত্র সংসদ’ কর্মীরা সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান নূরের কাছে ঐতিহ্যবাহী বাড়িতে একটি চলচ্চিত্র কেন্দ্র করার জন্য দাবিপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। কিন্তু বিগত ৩ বছরে কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। গত শনিবার ২১ ডিসেম্বর কলেজ কর্তৃপক্ষ সাইকেল স্ট্যান্ড করার অজুহাতে ভবনের একটি অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। আমরা এ হীন কাজের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিষয়টি আজ সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ বাবুর গোচরে এলে তিনি দ্রুত জেলা প্রশাসককে ভাঙার কাজ স্থগিত করতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। নির্দেশমতো ভাঙার কাজ স্থগিত হয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি এটা সাময়িক ব্যবস্থা।”

বাংলা চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা নির্মাণে ঋত্বিক ঘটক একটি অবিস্মরণীয় নাম। তিনি আমাদের এই বাংলাদেশে জন্মেছিলেন এত আমাদের শ্লাঘার বিষয়- উল্লেখ করে ১২ নির্মাতা বলেন, “আমরা অনতি বিলম্বে ‘ঋত্বিক সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা এবং আমাদের চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য ঋত্বিক ঘটকের পৈতৃক ভবনটিকে ‘হেরিটেজ’ ঘোষণা করে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছি। দেশ বিদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শন, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গে একটি ভিন্নমাত্রার চলচ্চিত্র আন্দোলন এই প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে। আর এই ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে আমাদের চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশ সাধিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

হোমিওপ্যাথ কলেজটি ভিন্ন একটি স্থানে স্থানান্তর করে ‘ঋত্বিক চলচিত্র কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান তারা।