অনশন টানা চতুর্থ দিনে

কেউ নেই পাটকল শ্রমিকদের পাশে

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে দ্বিতীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ ও আমরণ অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বুধবার ছিল ওই কর্মসূচির টানা চতুর্থ দিন। তীব্র শীত আর টানা অভুক্ত থাকায় খুলনা, নরসিংদী, রাজশাহীতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অনেক শ্রমিক। তবে দীর্ঘ এই সময়ে কেউ আশ্বাস দিতে আসেননি তাদের। 

খুলনা থেকে দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯ রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শ্রমিকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে ২য় পর্যায়ে গতকাল বুধবার কর্মসূচির ৪র্থ দিন অব্যাহত ছিল। খালিশপুর, আটরা ও  নওয়াপাড়া শিল্প এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রায় অর্ধলাখ শ্রমিক-কর্মচারী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত আরও ১৫ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। ৪ দিনের এই অনশন কর্মসূচিতে মোট অর্ধশতাধিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অনশনস্থলে শতাধিক শ্রমিককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

নরসিংদী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নতুন বছরের প্রথম প্রহরে হাসি আনন্দে মাতোয়ারা সবাই। নতুন স্বপ্ন আর নতুন ভাবনায় উচ্ছ্বসিত মানুষ। কিন্তু হাসি নেই নরসিংদী ইউএমসি জুটমিলের শ্রমিকদের। তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশনস্থলে অবস্থান করেন শ্রমিকরা। অনশনে অংশ নিয়ে দুই দিনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনজন শ্রমিক। টানা ৪র্থ দিনের মতো আন্দোলন চললেও মেলেনি কোনো আশ্বাস।

শীতের তীব্রতা উপেক্ষা করে রাজশাহীতে পাটকল শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি চলছেই। গতকাল বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। এর আগে গত রবিবার দুপুর থেকে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালী এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত এই পাটকলের প্রধান ফটকের সামনে তারা কর্মসূচি শুরু করেন। ১১ দফা দাবি আদায়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। রাতেও তারা থাকছেন পাটকলের সামনে। শ্রমিকদের প্রত্যয়, এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না।

পাট খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, বকেয়া মজুরি-বেতন পরিশোধ, জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের রোয়েদাদ-২০১৫ কার্যকর, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির অর্থ পরিশোধ, চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের পুনর্বহালসহ ১১ দফা দাবিতে শ্রমিকরা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।