পূজার জন্য দুই সিটির ভোট পেছানোর দাবি

সরস্বতী পূজার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটের তারিখ পেছানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত দাবি জানায় সংগঠন দুটি।

এদিকে দুই সিটির নির্বাচনের তারিখ পেছাতে গত রবিবার হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। এর আগে নির্বাচন পেছানোর দাবি জানায় বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ।

ইসি সচিবের কাছে লেখা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, উভয় সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা উদযাপন হয়ে থাকে। একটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের জন্য অন্ততপক্ষে একদিন আগেই নির্বাচন পরিচালনাকারী কর্র্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। এজন্য একই দিনে পূজা ও ভোট কীভাবে হবে; তা বোধগম্য নয়। এ অবস্থায় নির্ধারিত ভোটের দিন পিছিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা হবে সেখানে ভোটকেন্দ্র না করার অনুরোধ করছি।

নিজ কার্যালয়ে এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কমিশন নেবে। আমার সিদ্ধান্ত হলো- এটা কমিশনে উপস্থাপন করা। তবে ভোটের তারিখ নির্ধারণের আগে পূজার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় এসেছে। কোনো সিডিউল ঘোষণার সময় কমিশনের সামনে সব তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়। অনুমোদিত সরকারি ক্যালেন্ডারও থাকে। ক্যালেন্ডারে পূজার তারিখ দেওয়া আছে ২৯ জানুয়ারি। তা দেখেই ৩০ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে দেওয়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে বলা হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা-পার্বণ এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয় তিথি ও গণনার মাধ্যমে। সে মতে, পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা হবে। পঞ্জিকা মতে, এ বছর ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি দুদিন পূজা হবে। তাই নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি দুই সিটির নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।