সেনাপ্রধানের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন

সবার আগে দেশের জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়ে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমদ বলেছেন, স্থানীয় জনগণকে সুবিধা-অসুবিধা ও স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।

গতকাল দুপুর ১টার দিকে কুতুপালং ও লম্বাশিয়া ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে উখিয়ার অস্থায়ী সেনাক্যাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে ঘণ্টাখানেক ধরে মতবিনিময় করেন সেনাপ্রধান। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সেনাপ্রধানকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুবুল আলম তালুকদার, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সরওয়ার কামাল, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী ও উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, দুপুর ১২টার দিকে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমদ হেলিকপ্টারযোগে উখিয়ার কুতুপালং পশ্চিমপাড়ায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। সেখান থেকে সড়ক পথে কুতুপালং ও লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্মাণাধীন কাঁটাতারের বেড়া পরিদর্শন করেন। পরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত আর্মি কো-অর্ডিনেশন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা আগমনে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ টাকার কোনো হিসাব নেই। এর জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে কখনো সুযোগ হলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলা হবে। পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়ন ভবনে ১০৮ জন সেনাসদস্যের একটি ক্যাম্প রয়েছে। পালংখালী ইউনিয়নের স্থানীয় জনগণের জন্য একটি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পের দাবি জানান তিনি। ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুবুল আলম তালুকদার বলেন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে অর্থ-সংশ্লিষ্টতার জটিলতা নিরসনে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। এর জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী কোনো এনজিওর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কে জড়াবে না, সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনীর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করবে।

ওই বৈঠকে ৩৪ বিজিবির সেক্টর কমান্ডার মনজুরুল আহসান খান, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুবুল আলম তালুকদার, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক এসএম সারওয়ার কামাল, উখিয়া সার্কেল নিহাদ আদনান তাইয়ান, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সহকারী বন সংরক্ষক সোহেল রানা, উখিয়া থানার ওসি আবুল মনসুর, পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী ও সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।