রেসিডেনসিয়াল ছাত্র আবরারের মৃত্যু

প্রথম আলো সম্পাদকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাতের অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হকসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

এর আগে ওই মামলায় গতকাল দুপুরে মোহাম্মাদপুর থানার পুলিশ প্রথম আলোর সম্পাদকসহ ১০ জনের নামে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক পুলিশের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মতিউর রহমান ও আনিসুল হক ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া বাকি আটজন হলেন কবির বকুল, শুভাশিস প্রামাণিক, মহিতুল আলম পাভেল, শাহপরাণ তুষার, জসীমউদ্দীন তপু, মোশাররফ হোসেন, সুজন ও কামরুল।

গত ১ নভেম্বর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় নবম শ্রেণির ছাত্র নাইমুল আবরার রাহাত। মহাখালীর ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ওই অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল প্রথম আলোর কিশোর সাময়িকী কিশোর আলো। প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান কিশোর আলোরও প্রকাশক, আর কিশোর আলোর সম্পাদক হলেন আনিসুল হক। সেদিন থানায় অপমৃত্যুর মামলার পর ময়নাতদন্ত ছাড়াই আবরারের বাবা মুজিবুর ছেলের লাশ নিয়ে যান বলে মোহাম্মদপুর থানার তখনকার ওসি জি জি বিশ্বাস জানিয়েছিলেন। পরে নোয়াখালীতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয় আবরারকে। এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার জন্য কিশোর আলো কর্র্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করার পাশাপাশি কাছের এত হাসপাতাল থাকতে দূরের হাসপাতালে আবরারকে নেওয়া এবং মৃত্যুর পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়। সমালোচনার মুখে কিশোর আলো কর্র্তৃপক্ষ জানায়, ওই অনুষ্ঠানের অংশীদার ছিল ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অনুষ্ঠানে তাদের একটি মেডিকেল ক্যাম্প ছিল, ওই ক্যাম্পের চিকিৎসকের পরামর্শেই আবরারকে ইউনিভার্সেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আর আবরারের মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগেই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গিয়েছিল।

আবরারের বাবা মো. মুজিবুর রহমান গত ৬ নভেম্বর প্রথম আলো সম্পাদকসহ অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। সেখানে দণ্ডবিধির ৩০৪ (ক) ধারায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়।

গতকাল সকালে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, ‘অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি ছিল। গাফিলতির কারণেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরার রাহাতের মৃত্যু হয়েছে। এ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল তাদের মধ্যে ১০ জনের নামেই প্রতিবেদন দিয়েছি।’