প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছেলেকে কুপিয়ে জখম!

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর এক বাবার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে জেলার কলাপাড়ার মনসাতলী গ্রামের সুলতান মৃধা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এমনকি ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তিনি মামলা করতে ব্যস্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ গ্রামবাসীর। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুলতান মৃধা।

গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার এক আসামি জাকির হোসেন হাওলাদার। 

জাকির হোসেন বলেন, উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামের আবদুল মোতালেব মীর গংয়ের সঙ্গে সুলতান মৃধার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। অথচ ছেলেকে কোপানোর ঘটনায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের কারও সঙ্গেই তার কোনো বিরোধ ছিল না। মামলার মাত্র একজন আসামি মোতালেব মীরের জমি বর্গাচাষ করেন।

জাকির হোসেনের দাবি, উদ্দেশ্যমূলকভাবে ওই মামলায় গ্রামবাসীকে জড়ানো হয়েছে।

জাকির হোসেন বলেন, সুলতান মৃধা, হানিফ মৃধা, মোশাররফ মৃধা, বাবুল মৃধা ও লিটন মৃধা মনসাতলী এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের সঙ্গে জলদস্যুদেরও যোগাযোগ আছে। তাদের বিরুদ্ধে পুকুর ও ঘেরের মাছ লুট, বন বিভাগের গাছ চুরি, ট্রলারে ডাকাতিসহ বেশ কয়েকটি মামলাও আছে। তবে সুলতান মৃধার দাবি, ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। আসামিরা তাকে মনে করে তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনার দিন মোতালেবের মামলায় হাজিরা দিতে কলাপাড়া আদালতে আসি। রাত হওয়ায় বাড়ি না গিয়ে রাতে ভাগ্নে হাবিব মুন্সীর বাসায় থাকি। এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ভেবে আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সোবহানকে কুপিয়ে জখম করে কে বা কারা। ওই ঘটনার পর মামলা করেন সুলতান মৃধা। আর বরিশাল ও ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বর্তমানে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে সোবহান।