৯ বছরে পা দিল রকমারি ডটকম

আট বছর আগে বাংলাদেশের কমসংখ্যক মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত। অনলাইনে কেনাকাটা বিষয়টা তখন অনেকের জন্য ছিল অবাস্তব একটা ব্যাপার। সে সময় অন্যরকম গ্রুপের কর্ণধার মাহমুদুল হাসান সোহাগ প্রতিষ্ঠা করলেন রকমারি ডটকম।

সেই সময়ের প্রেক্ষিতে ব্যাপারটা এতটাই অদ্ভুত ছিলো, যে তার সঙ্গে বেশিরভাগ মানুষের বিষয়টা মানিয়ে নিতে বেশ সময় লেগেছে। ক্রেতারা ভাবত, ‘ইন্টারনেট থেকে বই কিনব, ঠিকমত ডেলিভারি দেবে তো?’, ‘বাজে কোয়ালিটির বই গছিয়ে দেবে না তো?’- নানারকম সংশয় ছিল। তবে সংশয় এবং কৌতূহলের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে কিছু মানুষ কেনা শুরু করলেন বই।

তার পরের গল্পটা সুন্দর। রকমারি নিজেদের প্রচার যতটা করেছে, মানুষ তারচেয়ে বেশি করে দিয়েছে। বইপড়ুয়া মানুষরা নিজেদের মধ্যে আলাপে রকমারির প্রসঙ্গ তুলবে না, এমন ঘটনা কমই ঘটছে এখন।

দেখতে দেখতে সেই রকমারি আট বছর পূর্ণ করল। এই অল্প সময়ে পৃথিবীতে অনেক বদল ঘটেছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই হারিয়ে ফেলেছে জৌলুস। অনেকেই তাদের অস্তিত্ব নিয়ে সংকটে রয়েছে, কাগজের বইয়ের বদলে অনেকেই ই-বুক, পিডিএফ পড়ছেন, এর মধ্যেও রকমারি নিজেদের জানান দিয়ে যাচ্ছে প্রবলভাবে।

আট বছর আগের আজকের দিনে (১৯ জানুয়ারি) রকমারি যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন বাংলাদেশে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ছিল না বলা চলে। আর আজ জীবনধারণের জন্যে প্রয়োজনীয় সবকিছুই অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায়। সেই দিক থেকে রকমারিকে বাংলাদেশের ই-কমার্স আন্দোলনের অগ্রদূত বলাটা বাতুলতা হবে না।

রকমারির উদেবদশ্য খুব সাধারণ। মানুষকে বই পড়তে উৎসাহিত করা, ৫৬ হাজার বর্গমাইলে বই পৌঁছে দেয়া। বই কোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু নয়। তারপরও মানুষ রকমারি থেকে বই কিনছে, এবং মানুষের কাছে বই পৌঁছে দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তাদের অন্নসংস্থান করছেন এটি আশা জাগানিয়া।

রকমারি যে শুধুমাত্র ই-কমার্স আন্দোলনের পথিকৃত, তা নয়। নতুন নতুন চিন্তা এবং উদ্যোগের সঙ্গেও পরিচয় করিয়েছে রকমারি। বইয়ের মার্কেটিংকে নিয়ে গেছে নতুন পর্যায়ে। রকমারির বই বিষয়ক ই-মেইলের অনেকগুলিই সাহিত্যমান সম্পন্ন। কখনও চিঠির আঙ্গিকে, কখনও গল্পের আঙ্গিকে, কখনও সংলাপের মাধ্যমে, কখনও বিভিন্ন চরিত্রে চিত্রিত ই-মেইলগুলি খুব কম মানুষই স্প্যাম ফোল্ডারে রাখতে চাইবেন। প্রতিযোগিতা নয় সহযোগিতা- এই নীতির অসাধারণ এক প্রদর্শন তারা দেখিয়েছে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে অন্যান্য অনলাইন বুকশপগুলির নাম প্রচার করে।

“আপনার অর্ডারটি আমাদের পক্ষ থেকে প্রস্তুত করে ডেলিভারি টিম এর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে রেডি করা হয়েছে আপনার পার্সেলটি। আশা করি আপনার পার্সেলটি খুব দ্রুতই পেয়ে যাবেন”

অর্ডার কনফার্ম হবার পর এমন মেইল পেয়ে ক্রেতা আশ্বস্ত হন। শুধু তাই না, ঢাকার মধ্যে নিজস্ব ডেলিভারি ম্যান দিয়ে পার্সেল দেওয়ার আগে এসএমএস করে ডেলিভারি ম্যানের নাম এবং সময় জানিয়ে দেওয়া হয়।

এসব কারণেই সে দিনের ছোট্ট উদ্যোগ আজক অনলাইন বুকশপের আইকন।

১০০টি বই নিয়ে শুরু করা অনলাইন বুকশপটিতে আজ এন্ট্রি করা আছে ২ লাখের বেশি বই। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার পার্সেল পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের কাছে।