বইমেলায় আবু তাহের সরফরাজের উপন্যাস ‘তৃষ্ণাকুমারী’

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ এ প্রকাশিত হয়েছে আবু তাহের সরফরাজের উপন্যাস ‘তৃষ্ণাকুমারী’। লোকজ কিস্‌সাভিত্তিক এই উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে ‘বৈভব’। প্রচ্ছদ এঁকেছেন, পাপিয়া জেরীন। বইমেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি মিলছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বৈভবের ৭১৮ নম্বর স্টলে। ৭২ পৃষ্ঠার এ বইটির দাম ৩৫০ টাকা।

উপন্যাসটি সম্পর্কে আবু তাহের সরফরাজ বলেন, “ইতিহাস মানে শুধু রাজার শাসন কিম্বা রাজ্য দখল নয়, জনজীবনের চিত্রও। কিন্তু ইতিহাসে জনজীবন থাকে না, থাকে রাজার শাসনব্যবস্থার চিত্র। ঐতিহাসিক সময়ের জনজীবনের চিত্র দেখতে এ কারণে উপন্যাসের বিকল্প নেই। লোকজ কিস্‌সা-কাহিনি আমাদের গ্রাম-বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য। একটা সময় ছিল, দাদি-নানিদের মুখে কিস্‌সা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ত শিশুরা। বাদ যেত না বয়স্করাও। শানবাঁধানো পুকুরঘাটে বসতো কিস্‌সার আসর। সময় বদলে গেছে। হারিয়ে গেছে গ্রাম-বাংলার আবহমান সেই সব কিস্‌সা। এ রকমই একটি লোকজ উপাখ্যান ‘আঁটকুড়ে রাজার কিস্‌সা’কে উপন্যাসরূপ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘লিখতে লিখতে টের পেয়েছি, ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখতে দম লাগে। এ ধরনের কাহিনি নির্মাণে চরিত্র কিম্বা প্রতিবেশকে ছবির মতো অক্ষরে গেঁথে তুলতে বিশেষ মুনশিয়ানার দরকার হয়। বিশেষ সময়কে ধারণ করেই তা করতে হয়। কতটা সফল হয়েছি, ‘তৃষ্ণাকুমারী’ পাঠশেষে তা পাঠকেই বিচার করবেন।’

‘তৃষ্ণাকুমারী’র কাহিনি-সংক্ষেপ দিতে গিয়ে সরফরাজ বলেন, ‘খাগড়ামুল্লুকের রাজা তেপই। তিনি নিঃসন্তান। এ নিয়ে রাজা-রানির দুঃখের শেষ নেই। প্রজারা আড়ালে আঁটকুড়ে বলে তাদের নিন্দে করে। পুজোর ঘরে নির্জনে ঠাকুরের মূর্তির সামনে বসে রাজা ধ্যানস্থ হয়ে যান। প্রার্থনা করেন একটি সন্তান। এমনই এক ধ্যানস্থ সময়ে রাজা সাক্ষাৎ পান এক সন্ন্যাসীর। তিনি একটি গর্ভকুসুম দেন। এ ফুলের ঘ্রাণ নিলে রানি গর্ভবতী হবেন। শর্ত হচ্ছে, গর্ভবতী হলে ফুলটি ফেলে দিতে হবে। কিন্তু গর্ভবতী হয়েও ফুলটি রানি ফেলেন না। যে ফুল পৃথিবীর কোথাও নেই, তা তার আছে। এই অহং তাকে লোভী করে তোলে। যথাসময়ে রানি একটি কন্যাশিশু প্রসব করেন। নাম রাখা হয়, তৃষ্ণাকুমারী। দশম জন্মোৎসবে তৃষ্ণাকুমারী হঠাৎই হাতে পেয়ে যায় গর্ভকুসুম। কৌতূহলী হয়ে ঘ্রাণ নেয়। এরপর ঘটে যেতে থাকে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা।’

উল্লেখ্য, কবিতা, ছোটগল্প ও উপন্যাস মিলিয়ে আবু তাহের সরফরাজের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৮।